ডেস্ক প্রতিবেদন,এগ্রিকেয়ার২৪.কম: চলতি বছর সেপ্টেম্বরে বিশ্ববাজারে খাবারের দাম সামান্য কমেছে। মূলত চিনি আর দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমার কারণেই এমনটা হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) শুক্রবার তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

যদিও এফএও বলছে, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে এই সূচক নিম্নমুখী হলেও তা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এখনও কিছুটা বেশি।

রোমভিত্তিক সংস্থা এফএও বিশ্বব্যাপী লেনদেনকৃত প্রধান খাদ্যপণ্যগুলোর মাসিক মূল্য পরিবর্তনের ভিত্তিতে এই সূচক তৈরি করে।

সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে এফএও খাদ্যমূল্য সূচক গড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮ দশমিক ৮ পয়েন্টে। এর আগের মাস আগস্টে সংশোধিত সূচক ছিল ১২৯ দশমিক ৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ, মাসের ব্যবধানে সূচক সামান্য হ্রাস পেয়েছে। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় বর্তমান সূচক ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

সেপ্টেম্বরে মূল্যসূচক হ্রাসের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে চিনি, দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্যতেল ও খাদ্যশস্যের দাম কমে যাওয়া। এর বিপরীতে মাংসের দাম বেড়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

চিনি ও দুগ্ধজাত পণ্যের বড় পতন

এফএও-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে চিনির মূল্যসূচক আগস্টের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে, যা ২০২১ সালের মার্চের পর সর্বনিম্ন। ব্রাজিলে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি উৎপাদন এবং ভারত ও থাইল্যান্ডে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ভালো ফলনের সম্ভাবনায় চিনির বাজারে এই দরপতন হয়েছে।

দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচকও কমেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে মাখনের দাম বিশ্বব্যাপী ৭ শতাংশ কমে গেছে। উত্তর গোলার্ধে আইসক্রিমের চাহিদা কমে যাওয়া এবং ওশেনিয়া অঞ্চলে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনায় এই পতন ত্বরান্বিত হয়েছে।

এছাড়া প্রধান আমদানিকারকদের দুর্বল চাহিদার কারণে দুধের গুঁড়া ও চিজের দামও নিম্নমুখী ছিল।

কমেছে শস্য ও ভোজ্যতেলের দাম

এফএও সিরিয়াল (খাদ্যশস্য) মূল্যসূচক আগস্টের তুলনায় ০ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদার নিম্নগতি এবং প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোতে ভালো ফসলের নিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম টানা তৃতীয় মাসের মতো কমেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহের পূর্বাভাস এবং আর্জেন্টিনায় শস্য রপ্তানি শুল্ক সাময়িক স্থগিত রাখায় ভুট্টার দামও পড়েছে। ফিলিপাইন ও আফ্রিকার ক্রেতাদের অর্ডার কমে যাওয়ায় চালের মূল্যসূচক কমেছে ০ দশমিক ৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক সেপ্টেম্বরে ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। মালয়েশিয়ায় শক্তিশালী মজুদ এবং আর্জেন্টিনা থেকে সরবরাহ বাড়ায় পাম ও সয়াবিন তেলের দাম কমেছে, যা সূর্যমুখী ও সরিষার তেলের দাম বৃদ্ধিকে ছাপিয়ে সামগ্রিক সূচক নামিয়ে এনেছে।

মাংসের দাম নতুন উচ্চতায়

এদিকে অন্যান্য পণ্যের দাম কমলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে মাংসের বাজারে। এফএও মাংস মূল্যসূচক আগস্টের তুলনায় ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় এটি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

শূকর ও মুরগির মাংসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও গরু ও ভেড়ার মাংসের দাম বৃদ্ধির কারণেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবল চাহিদার বিপরীতে সীমিত দেশীয় সরবরাহের কারণে গরুর মাংসের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

শস্য উৎপাদনে রেকর্ডের পূর্বাভাস

মূল্যসূচকের পাশাপাশি এফএও ২০২৫ সালের জন্য বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের হালনাগাদ পূর্বাভাস দিয়েছে। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, মোট উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৯৭১ মিলিয়ন টন, যা গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এটি ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি।

প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ায় গম, যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টা ও ভারতে চাল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

এফএও ধারণা করছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্ব শস্যের মোট ব্যবহার বেড়ে ২ হাজার ৯৩০ মিলিয়ন টনে দাঁড়াবে এবং মৌসুম শেষে বৈশ্বিক শস্য মজুদ বেড়ে হবে ৯০০ দশমিক ২ মিলিয়ন টন। এ সময় বিশ্ব চালের মজুদ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শস্য মজুদ ও ব্যবহারের অনুপাত ৩০ দশমিক ৬ শতাংশে স্থিতিশীল থাকবে, যা অনুকূল সরবরাহ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।