অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদক ও ব্যবহারকারী দেশে পরিণত হচ্ছে ভারত। পাশাপাশি রফতানিতে দেশটি দ্বিতীয় শীর্ষে উঠে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

২০২০-২১ মৌসুম থেকেই রফতানিতে ঊর্ধ্বমুখী এ ধারা অব্যাহত আছে। সর্বশেষ মৌসুমজুড়ে বিশ্ববাজারে চিনির দাম খাতটির জন্য অনুকূলে ছিল। সুবিধা মিলেছে সরকারি নীতির কারণেও, যা রফতানিতে বড় অর্জন এনে দিতে ভূমিকা পালন করেছে। এ রফতানি দেশটিকে ৪০ হাজার কোটি রুপির সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এনে দিয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে ভারতে ২০২১-২২ চিনি মৌসুম শুরু হয়। এ বছরের সেপ্টেম্বরে মৌসুম শেষ হয়েছে। এ মৌসুমে দেশটি ৫০ কোটি টনেরও বেশি আখ উৎপাদন করেছে। এর মধ্যে চিনিকলগুলো ৩৫ কোটি ৭৪ লাখ টন মাড়াই করেছে। মাড়াইকৃত এসব আখ থেকে ৩ কোটি ৯৪ লাখ টন চিনি উৎপাদন করা হয়েছে। এসব চিনির ৩৫ লাখ টন আবার ইথানল উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ভারত অন্যান্য দেশকে উৎপাদন ও ব্যবহারের দিক থেকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:

এবার সরকারিভাবে চিনির দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা

চিনি ও পাম তেলের দাম বেঁধে দিলো সরকার

১ কোটি লাখ টন চিনি রফতানি করবে ভারত

সদ্য সমাপ্ত এ মৌসুমে আখ ও চিনি উৎপাদন, চিনি রফতানি, আখ প্রক্রিয়াকরণ, আখের পুরোপুরি মূল্য পরিশোধ এবং ইথানল উৎপাদন—সব ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছে ভারত। কোনো রকম অর্থনৈতিক সহায়তা ছাড়াই এ মৌসুমে ভারত ১ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার টন চিনি রফতানি করেছে। এটি বিদায়ী মৌসুমের আরেকটি অর্জন।

চিনি শিল্প ভারতের কৃষিভিত্তিক অন্যতম প্রধান খাত। এ খাতের উৎপাদন, ব্যবহার ও রফতানি বাড়ায় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাঁচ কোটি কৃষক আখ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়ছে। এর বাইরে সংশ্লিষ্ট পরিবহন, যন্ত্রাংশ সংস্কার এবং কৃষি উপকরণ উৎপাদন ও বিপণন খাতেও কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে ভারতের চিনি শিল্পের উৎপাদন ৮০ হাজার কোটি রুপিতে উন্নীত হয়েছে। ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই নাগাদ দেশটিতে ৭৩২টি চিনিকল নির্মিত হয়। এসব কলের অন্তত ৩ কোটি ৩৯ লাখ টন চিনি উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে।

কোনো রকম সরকারি অর্থিক সহায়তা ছাড়াই চিনিকলগুলো ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি রুপির আখ কৃষকদের থেকে ক্রয় করেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি রুপি বকেয়া ছাড়াই পরিশোধ করা হয়েছে।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:

জনপ্রিয় হচ্ছে ৫৫ দিনে এককেজি ওজনের মুরগির জাত

ঘাস চাষ করেই কোটিপতি গফুর!

মায়ের দেওয়া গাভী থেকে কোটিপতি আরাফাত

এদিকে চলতি মৌসুমে নতুন চিনি রফতানি নীতি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে ভারত। উদ্দেশ্য দেশটির আখচাষী ও চিনি ব্যবহারকারীদের মুনাফা অর্জনে ভারসাম্য আনা। দেশটির সরকার ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা এ তথ্য জানিয়েছে।

নতুন এ নীতির অধীনে দুই ধাপে চিনি রফতানি করা হবে। স্থানীয় বাজারে চিনি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই চলতি মৌসুমে চিনি রফতানিতে কোটা বেঁধে দেয় ভারত। ফলে বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় আশঙ্কা দেখা দেয়। পাশাপাশি উদ্বেগ তৈরি হয় এশিয়াজুড়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার।

ন্যাশনাল ফেডারেশন অব কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ লিমিটেডের এমডি প্রকাশ নায়েক বলেন, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত কোটার অধীনে দুই ধাপে চিনি রফতানি করা হবে। চলতি মৌসুমে নয়াদিল্লি ৭০-৮০ লাখ টন চিনি রফতানির অনুমতি দেবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৪০-৫০ লাখ টন এবং পরের ধাপে বাকি চিনি রফতানি করা হবে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ