
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) থেকে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ফুড আউটলুক-জুন ২০২১’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বে চাল উৎপাদনে তৃতীয় স্থান দখল করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০২১ সালে বাংলাদেশে চাল উৎপাদন বেড়ে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টন হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
দীর্ঘদিন ধরেই খাদ্যশস্যটি উৎপাদনে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থান ছিল চতুর্থ। চীন ও ভারতের পরেই তৃতীয় স্থানটি ছিল ইন্দোনেশিয়ার। তবে, এবার ইন্দোনেশিয়াকে টপকে তৃতীয় স্থান নেবে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদন পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি কৃষি পণ্যের উৎপাদনের তুলনা করা হয়েছে।
ইউএসডিএর প্রতিবেদনের তথ্য মতে, এরআগে বাংলাদেশ ২০১৯ সালে ৩ কোটি ৬৫ লাখ টন চাল উৎপাদন করে। এ কারণেই ওই বছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়াকে টপকে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে। ২০২০ সালে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বাংলাদেশ আবারও তৃতীয় স্থানে থাকে। উৎপাদিত হয় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টন চাল।
এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরও বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে থাকবে। ওদিকে তৃতীয় স্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। এ বছর তাদের মোট উৎপাদন ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ৩ কোটি ৭১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, দেশে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে চালের উৎপাদন। চলতি অর্থবছরে আমন মৌসুমেও রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। আবার গত আউশ মৌসুমে চালের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশে উৎপাদিত চালের ৫৫ শতাংশের বেশি আসে বোরো ধান থেকে। বাকিটা আসে আউশ ও আমন থেকে। দেশের জমিগুলোতে বছরে একই জমিতে তিন বার ধান উৎপাদন করা হয়। বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা ধান আবাদের আওতায় আনা হচ্ছে। এ অঞ্চলের উপযোগী ধানের জাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। চলতি মৌসুমে হাওর এলাকায় ধানের বাম্পার ফলনের মাধ্যমে দেশের চালের উৎপাদনের একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সর্বশেষ গত বোরো মৌসুমে সাড়ে ৪ লাখ টন বাড়তে পারে চালের উৎপাদন। তিন মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্মিলিতি ফলাফলই বাংলাদেশ শীর্ষ তিনে চলে আসার প্রকৃত কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি বছর বোরো মৌসুমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী প্রতি কেজি চালের উৎপাদন খরচ ছিল ৩৮ টাকা। আর সরকার প্রতি কেজি চাল ৪০ টাকা ও ধান ২৭ টাকা দরে কেনার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম সরকারের সংগ্রহ মূল্যের চেয়ে চার–পাঁচ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্য পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ উৎপাদন বেড়ে যাওয়ার এই সুফল যাচ্ছে চালকলমালিক ও ব্যবসায়ীদের পকেটে। কৃষকেরা সরকারঘোষিত ধানের দাম পাচ্ছেন না।
এক ও দুই নম্বর অবস্থানে থাকবে বলে প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে চীন ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ও ভারত ১২ কোটি ৩১ লাখ টন চাল উৎপাদন করে তাদের স্থান ধরে রাখবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। এর মধ্যে চীন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ায় চালের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও ভারতে বাড়ছে না।
এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চাল উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে এর বাড়তি দাম। সঙ্গে বেড়েছে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর প্রতিবেদনেও বাংলাদেশে এ বছর চালের উৎপাদন বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর বাংলাদেশ ১৮ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। মোট দানাদার খাদ্য আমদানি হয়েছে ৯৮ লাখ টন।
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা কৃষি যান্ত্রিকীকরণে আরও গুরুত্ব দিচ্ছি। বাজারে চালকলমালিকদের দৌরাত্ম্য কমাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধান রাখার গুদাম নির্মাণ করছি। যেখানে কৃষক সরাসরি ধান বিক্রি করতে পারবে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশে ধানের উৎপাদন আরও বাড়বে।’
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























