ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম:
চাকরির পেছনে না ছুটে নদীর অলস পড়ে থাকা গভীর পানিকে কাজে লাগিয়ে সফলতার অনন্য নজির গড়েছেন দিনাজপুরের প্রবাসফেরত যুবক এনামুল হক। সদর উপজেলার মোহনপুর আত্রাই নদীর ওপর রাবার ড্যামের উজানে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ করে এখন তিনি লাখপতি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে দীর্ঘ ৭ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে এনামুল হক ভিন্ন কিছু করার পরিকল্পনা করেন। রাবার ড্যামের কারণে আত্রাই নদীতে বছরজুড়ে ১৭-১৮ ফুট গভীর পানি থাকাকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেন ‘মনোসেক্স তেলাপিয়া’র চাষ।

শুরুতে মাত্র ১০টি খাঁচা দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তাঁর খাঁচার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭টিতে। এই প্রকল্পে প্রায় ১৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ইতিমধ্যে তিনি ২০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছেন এবং আরও ১০-১২ লাখ টাকার মাছ বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছেন।

উদ্যোক্তা এনামুল হক বলেন, ‘চাঁদপুর ও ময়মনসিংহে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ দেখে আমি অনুপ্রাণিত হই। জেলা মৎস্য দপ্তরের পরামর্শ নিয়ে এখানে কাজ শুরু করি। পানির প্রবাহ ও গভীরতা দুই-ই অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘পিয়নের চাকরির পেছনে ১০-১২ লাখ টাকা খরচ না করে সেই টাকা দিয়ে এমন উৎপাদনশীল কাজ করলে নিজের ও দেশের উন্নতি হবে।জেলা মৎস্য কর্মকর্তা তারিকুর রহমান সরকার জানান, জেলায় বছরে মাছের চাহিদা ৯৩ হাজার মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হচ্ছে ৭৩ হাজার টন।

এই ২০ হাজার টনের ঘাটতি পূরণে এনামুলের মতো উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। নদীর পানি ব্যবহার করে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ জেলায় এটিই প্রথম।বর্তমানে আত্রাই নদীর মোহনপুর রাবার ড্যাম দেখতে আসা পর্যটকদের কাছে এই ভাসমান মাছের খামারটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেকার যুবক ও উৎসাহী মানুষ এখানে পরামর্শ ও অনুপ্রেরণা নিতে আসছেন।
এগ্রিকেয়ার২৪.কম:/ আরিফ