
এগ্রিকেয়ার ডেস্ক: উচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যভিত্তিক চাষাবাদ এবং মূল্যসংযোজনমুখী কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ভিয়েতনামের লাম ডং প্রদেশ। বছরের পর বছর কৃষি খাতকে পুনর্গঠনের ফলে সেখানে উৎপাদন বেড়েছে, কৃষিপণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি মডেল বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে বিস্তারের সুযোগ রয়েছে, যা কৃষকের আয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
লাম ডংয়ে কৃষি উৎপাদন এখন আর কেবল অভিজ্ঞতা বা অনুমানের ওপর নির্ভরশীল নয়। প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে প্যাশন ফল ও বিভিন্ন সবজি চাষ করছে মিনহ ডুক কৃষি ও বাণিজ্যিক সমবায়। চাষ শুরুর আগে তারা জমির মাটি, পানি ও পুষ্টির মাত্রা বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত ফসল নির্বাচন করে। উৎপাদনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তথ্যের ভিত্তিতে। সমবায়ের অনেক সদস্য ইলেকট্রনিক লগবুক ব্যবহার করে চাষাবাদের তথ্য সংরক্ষণ করেন।
সমবায়ের পরিচালক লু ল্যাপ ডাক জানান, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তারা প্যাশন ফল ও স্বল্পমেয়াদি সবজির জন্য পানি ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করছেন। এতে উৎপাদনশীলতা বাড়ার পাশাপাশি খরচ কমছে। একই সঙ্গে কৃষকেরা আগাম উৎপাদন পরিকল্পনা করতে পারছেন এবং ঝুঁকিও কমছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা কৃষিপণ্য বিপণনও করছে, ফলে পণ্যের উৎস ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা তৈরি হচ্ছে।
ডুক ট্রং কমিউনে বর্তমানে ৫ হাজার ৩০০ হেক্টরের বেশি জমিতে উচ্চ প্রযুক্তির মাধ্যমে সবজি ও ফুল চাষ হচ্ছে। এসব জমি থেকে প্রতি হেক্টরে বছরে ৪০০ থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং মূল্যের কৃষিপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। কিছু মডেলে উৎপাদন মূল্য ১ বিলিয়ন ডং ছাড়িয়েছে। এ অঞ্চলের দুই হাজারের বেশি কৃষক পরিবার উৎপাদন ও বাজার সংযোগ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
প্রাদেশিক পর্যায়ে লাম ডংয়ে বর্তমানে ১ লাখ ৭ হাজার ৩০৬ হেক্টর কৃষিজমিতে উচ্চ প্রযুক্তির কৃষি চর্চা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টরে স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রদেশটিতে ১৬টি উচ্চ প্রযুক্তির কৃষি অঞ্চল এবং ৯টি উচ্চ প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রতি হেক্টরে গড় কৃষি উৎপাদন মূল্য প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং। কৃষি খাত থেকে বছরে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হচ্ছে।
২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ প্রযুক্তির কৃষি চাষের আওতা ১ লাখ ৫০ হাজার হেক্টরে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে লাম ডং প্রশাসন। একই সঙ্গে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারব্যবস্থাকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত মূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ গভীর প্রক্রিয়াজাতকরণের আওতায় আনা।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনা মূলত ‘বাল্ক উৎপাদন’ থেকে ‘মূল্যসংযোজনভিত্তিক উৎপাদন’-এ রূপান্তরের একটি উদাহরণ। এতে কৃষিপণ্যের দাম বাড়ে এবং কাঁচামাল বাজারের ওপর নির্ভরতা কমে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও উঁচু জমিতে ফল ও সবজি চাষে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করলে বাংলাদেশের কৃষকরাও লাভবান হতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র:ভিয়েতনাম ডট ভিএন
























