নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সময় যত এগিয়ে আসছে ততোই শক্তিশালী হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে খেপুপাড়ায় সর্বোচ্চ ২৯৪ ও ঢাকায় ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার ভোর নাগাদ বরিশাল অঞ্চলের উপর দিয়ে ঘুর্নিঝড়টি অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৫’শ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝড় হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আসন্ন এই ঘূর্ণিঝড় তিন কারণে আরও শক্তিাশলী হয়ে উঠতে পারে। পূর্ণ শক্তি নিয়ে উপকূলের দুই জেলায় আঘাত হানতে পারে সিত্রাং। সোমাবার এ তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ছানাউল হক মণ্ডল জানান, ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং মধ্যরাতে পূর্ণ শক্তি নিয়ে স্থলভাগের ওপর দিয়ে সম্মুখে অগ্রসর হবে। এর শেষ ভাগ মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করবে। বাংলাদেশের পুরো স্থলভাগ অতিক্রম করতে এর ৫-৬ ঘণ্টা লাগবে। ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত সারা দেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

ভোলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং, তের জেলায় ৭ নম্বর বিপদসংকেত, বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এর আগে আবহাওয়াবিদরা ধারণা করেছিলেন, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র মঙ্গলবার ভোরবেলা বাংলাদেশের কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এলাকা দিয়ে (খেপুপাড়া) বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করবে।

বরিশাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যবেক্ষক প্রণব কুমার রায় জানান, বর্তমানে পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ অনুসারে পটুয়াখালীর খেপুপাড়া, ভোলার চরফ্যাশন এবং বরিশাল জেলা অভিমুখে। শেষ রাতের দিকে উপকূল অতিক্রম করবে ঘূর্ণিঝড়টি।

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৮ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুবাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

১৫টি জেলায় ৭ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ২৫ লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। এতে গবাদিপশুর জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাইকিং করে এসব অঞ্চলের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বলছে।