
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম:
“মাংস আমদানি করে আমরা দেশের ক্ষতি করতে চাই না”— এমন মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, অনেক দেশ বাংলাদেশে স্বল্পমূল্যে গরুর মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দিচ্ছে, কিন্তু এতে দেশের খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সরকার বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোচ্ছে।
বুধবার সকালে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ফরিদা আখতার বলেন, “আমরা কেন মাংস আমদানি করবো? বরং দেশেই উৎপাদন খরচ কমিয়ে নিজেদের চাহিদা পূরণে কাজ করবো। মাংস আমদানি নয়, উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে আমরা মাংস ও ডিমের দাম কমানোর পথে অগ্রসর হবো।”
তিনি জানান, গবেষণার বাজেট ৫ কোটি থেকে ৩ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষতিকর। গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ না থাকলে নতুন উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্য সম্পর্ক নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “যে রোগ প্রাণীর হয় তা মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে, আবার মানুষের রোগও প্রাণীর মধ্যে ছড়াতে পারে। তাই ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।”
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো নিজেদের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমাতে না পেরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর গবাদিপশুকে দায়ী করছে, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
অনুষ্ঠানে বিএলআরআই’র মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের। তিনি প্রাণিসম্পদ খাতে প্রাণীর সুস্থতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এছাড়া কর্মশালায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ, খামারি ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
























