নিজস্ব প্রতিবেদক,রাজশাহী, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় কৃষি বিভাগের উদ্যোগে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ইরি-বোরো মৌসুমের ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দি কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে গোদাগাড়ী উপজেলার রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক সংলগ্ন বিজয়নগর মাঠে ধান কাটা ও মাড়াই কাজের উদ্বোধন করেন রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সুধেন্দ্র নাথ রায়।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুল হক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হারুন উর রশীদ, গোদাগাড়ীর উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফুন নাহার, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মতিয়র রহমান প্রমুখ।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল হক কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। কৃষকদের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্য সার ও বীজ বিতরণ করেছেন। এবং যেখানে কৃষি শ্রমিক দিয়ে বিঘা প্রতি খরচ ৮-৯ হাজার টাকা সেখানে একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে প্রতি ঘন্টায় এক একর জমির ধান কাটা,মাড়াই ও বস্তাাবন্দি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই কম লাগবে। সরকারিভাবে আবার কৃষকদের কাছ থেকে অধিকমূল্যে ধান ক্রয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সুধেন্দ্র নাথ রায় জানান, করোনা ভাইরাস এর কারণে কৃষকরা সারা দেশে শ্রমিক সংকট কাটাতে, প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে পরিত্রাণের জন্য স্বল্প সময়ে কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে আমরা সরকারি উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে সরবরাহকৃত হারভেস্টার দিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গোদাগাড়ীর মাধ্যমে জমির ধান কাটার ব্যবস্থা করেছি।

তিনি আরো বলেন, এবারের করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য কৃষকদের কথা চিন্তা করে সরকার ভূর্তকি দিয়ে ধান কাটার যান্ত্রিক মেশিন কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সরকার ধান কাটার যান্ত্রিক মেশিন কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে প্রমাণ করেছে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশের কৃষকদের কথা ভাবেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুসারে, এ বছর গোদাগাড়ী উপজেলায় ১৩ হাজার ৪শত ৮৫ হেক্টর জমিতে বোর ধানের চাষাবাদ হয়েছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা শুরু হওয়ায় অনেক কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

উল্লেখ্য, সমকালীন চাষাবাদ” পদ্ধতিতে বিজয়নগরের এই মাঠে ৬০ শতক জমির ধান দেখতে একই রকম হবে । এখানে থাকবে না অন্য কোন জাতের মিশ্রণ বা উঁচু নিঁচু ঢেউ খেলানো ভাব। এই জমি সমতল সবুজ জমিনের কার্পেট বিছানো চাদরের মত।

বিজয়নগরের এই ব্লকে একই মাঠে একই সাথে, একই দিনের চারা, একই গভীরতায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টার (চারা রোপণের যন্ত্র) দিয়ে লাইন করে আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান-৮১এর চাষাবাদ হয়েছিল ৷ তাই বিশেষ করে এই ব্লকে ধানকাটা উৎসব উদ্বোধন করা হলো।