ফসল ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: শস্য বহুমূখীতার পরামর্শ প্রদানে কৃষকের ভাল বাজার মূল্য যোগাবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান।

রাজশাহী জেলার কৃষি মন্ত্রণালয়ধীন সকল সংস্থার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ২৬ নভেম্বর রাজশাহীর অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়ের এনসিডিপি সম্মেলন কক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত অঞ্চলের সকল উপজেলা কৃষি অফিসার এবং জেলার কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য দপ্তর/সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়ের সময়ে কৃষি সচিব এ কথা বলেন।

ডিএই রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবদুর রশীদ এবং ডিএই রাজশাহীর উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শামছুল হক।

সচিব মহোদয় বলেন, এ বছর ৩৮ লক্ষ মে.টন ভূট্টা উৎপাদিত হয়েছে, এ উৎপাদনকে ১ কোটি মে. টনে নিয়ে যেতে হবে। তিনি আরোও বলেন, এক জাতীয় সব্জির আবাদ না করে বিভিন্ন জাতের সব্জির আবাদ ও সুষ্ঠ বাজার ব্যবস্থাপনা করতে পারলে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাবে।

ধান সম্পর্কে তিনি বলেন, যদিও আমরা এখন চালে উদ্বৃত্ত। তারপরও ধানের উৎপাদন আরো বাড়াতে হবে। একদিকে দেশে জমি কমছে, অন্যদিকে যোগ হচ্ছে মানুষ। তাই অতিরিক্ত খাদ্য চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন আউশের আবাদ বাড়ানো, আর আমনে দরকার জাত পরিবর্তন।

আউশ ধানে স্থানীয় জাতের পরিবর্তে উফশী জাত প্রতিস্থাপন করতে হবে। তিনি এই অঞ্চলের নিম্ন এলাকায় ব্রি ধান-৭৬ এবং ব্রি ধান-৭৭ জাত ব্যবহার করার পরামর্শ প্রদান করেন। সেসাথে ভুট্টার আবাদ বাড়ানোর এবং নিরাপদ সবজি উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরত্ব প্রদান করেন।

তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলে তাল, খেজুর, তেতুল, নিম, জাম, কাঁঠাল, আম এসব গাছের চারা লাগানোর পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়া তিনি কেঁচো কম্পোস্ট এবং ট্রাইকোকম্পোস্টেও ওপর জোর প্রদান করেন।

মতবিনিময় সভায় কৃষক, ডিএই  জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ বৃন্দ, বিএডিসি, এআইএস, এসসিএ, এসআডিআই, বারি, ব্রি, বিনা সহ অন্যান্য সংস্থার  প্রায়  ৮০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।