ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: শাপলা ফুল দেখতে যেমন সুন্দর, তরকারি হিসেবে খেতেও সুস্বাদু। দাম কম হওয়ায় নিম্নবিত্তদের কাছে এর চাহিদা অনেক। সুস্বাদু হওয়ায় ধনীরাও খায়। গ্রাম-বাংলার খাল-বিল কিংবা ডোবায় বর্ষা মৌসুমে দেখা মেলে এই শাপলা ফুলের। আর এই শাপলা বিক্রি করে চলছে শতাধিক পরিবারের জীবন-সংসার।
শাপলা সংগ্রহকারী নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাউড়িখোলা গ্রামের মলিনা রায় (মিলন) জানান, প্রতিদিন সকালে খাল-বিল থেকে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ আঁটি শাপলা সংগ্রহ করি। এই শাপলা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। আমাদের জীবন-সংসার শাপলার ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় আরও অনেকেই শাপলা বিক্রির টাকায় সংসার চালাচ্ছেন এবং সন্তানদের স্কুল ও কলেজে পড়াচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে গ্রামাঞ্চলের নিম্নবিত্তরা শাপলা তুলে ভাজি করে খেত। এখন শহরের বাজারেও এর চাহিদা বেড়েছে। খাবার হিসেবে যেমনই হোক, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার কয়েকশ পরিবারের জীবিকার প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে শাপলা। বিল থেকে শাাপলা তুলে এসব পরিবার সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মিটিয়ে কিছু সঞ্চয় করে। বছরে দুই থেকে তিন মাস শাপলা বিক্রি করেই চলে এসব পরিবার।
শাপলা ফুল সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত পাওয়া যায়। বর্ষায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো লোহাগড়া উপজেলায়ও নিম্ন আয়ের শত শত পরিবার শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শাপলা বিক্রিতে কোনো বড় পুঁজির প্রয়োজন হয় না। তাই বর্ষার সময়ে অনেক কৃষক ও দিনমজুর শাপলা সংগ্রহে সক্রিয় থাকেন।
লোহাগড়ায় বর্ষার পানিতে খাল বা নিচু জমি থেকে ডোঙা বা নৌকায় শাপলা তুলে আনতে হয়। এরপর তারা এটি বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করে। প্রতিদিন শাপলা বিক্রি করে তারা প্রায় ১ হাজার টাকা উপার্জন করেন। এতে চলে তাদের সংসার।
উপজেলার নারানদিয়া গ্রামের কৃষক চিত্ত বিশ্বাস ও শফি জানান, বর্ষাকালে আমাদের ফসলের কাজ থাকে না। তখন বিলের শাপলা আমাদের একমাত্র ভরসা। ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত শাপলা সংগ্রহ করি এবং দৈনিক প্রায় ১ হাজার টাকা উপার্জন হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিষিদ ফারজানা আক্তার বলেন, শাপলা মানুষ চাষাবাদ করে উৎপাদন করে না। প্রাকৃতিকভাবে বর্ষার পানিতে বৃদ্ধি পায়। কোন ধরনের যত্ন বা পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। আমাদের যদি মাটিকে উর্বর ও কীটনাশকমুক্ত রাখতে না পারি, তাহলে প্রকৃতির এই মূল্যবান উপহার একদিন আমাদের চোখের সামনে হারিয়ে যাবে।