
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের মেয়ে ২৬ বছর বয়সী উম্মে কুলসুম পপি, সামাজিক রীতিনীতি এবং পারিবারিক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পড়াশোনা শেষে কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি, কারণ ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি তার বিশেষ ভালোবাসা ছিল।
তার মূল লক্ষ্য, ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার না করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা, যা তিনি ‘সেফ ফার্মিং’ নামে প্রচার করেন। পপি জানান, বাইরে থেকে কেনা সবজি বা ফল খেতে প্রায়ই ভয় লাগতো, কারণ অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্য, বিশেষ করে কিডনি এবং ক্যান্সারের মতো রোগের কারণ হচ্ছে। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির মাধ্যমে আম চাষ করেন, যা কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই ফলকে দীর্ঘ সময় সতেজ ও নিরাপদ রাখে।

তার মতে, এটি কেবল স্বাস্থ্যের জন্য নয়, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং বন্যাপ্রবণ দেশের পরিবেশ রক্ষার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। ২০২২ সালে পপি তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কৃষি বিষয়ক ভিডিও তৈরি করা শুরু করেন, যেখানে তিনি কৃষি কাজের নিরাপদ ও টেকসই পদ্ধতিগুলো অনলাইনে তুলে ধরেন। প্রথমদিকে সীমিত সংখ্যক টিম সদস্য নিয়ে মাঠে গিয়ে চাষী ভাইদের সাথে কথা বলে মোবাইল ফোনেই ভিডিও ধারণ করতেন।
তার বিশ্বাস ছিল, এই তথ্যগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলে অনেকেই উপকৃত হবেন। অনলাইনে কাজ শুরু করার সময় তাকে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, কারণ একজন মেয়ে হয়ে পড়াশোনা করে উদ্যোক্তা হবেন, সেটা অনেকেই ইতিবাচকভাবে মেনে নিতে পারেনি। তবে ধীরে ধীরে তার অনলাইন উপস্থিতি বাড়ার সাথে সাথে দর্শক ও অনুসারীরা বিষয়টিকে খুব সুন্দরভাবে গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক এবং ইনস্টাগ্রাম মিলিয়ে পপির অনুসারীর সংখ্যা ৪৫ লাখেরও বেশি।
জনপ্রিয় এই ইনফ্লুয়েন্সারের এখন নিজস্ব কন্টেন্ট তৈরির একটি টিম রয়েছে। পপি জানান, তিনি তার ভিডিওতে অন্য কোনো ব্র্যান্ডের প্রচার করেন না, বরং নিজের কৃষিভিত্তিক ব্যবসা তুলে ধরেন। তিনি কৃষকদের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন, যারা তার কাছে ন্যায্যমূল্যে ফসল বিক্রি করেন।
এমনকি চাষাবাদের জন্য তিনি কৃষকদের আগাম অর্থও দেন, যাতে তাদের আর্থিক সমস্যা না হয়। প্রিমিয়াম ফল বিক্রি এবং ভিডিও থেকে প্রাপ্ত বিজ্ঞাপনের আয় দিয়ে পপি একটি টেকসই ব্যবসা গড়ে তুলেছেন এবং বেশ কয়েকজনকে চাকুরিও দিয়েছেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই তিনি ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছেন; তার স্বপ্ন একটি কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, যেখানে কৃষির সাথে জীবন কাটানোর এবং এটিকে সর্বতোভাবে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করা হবে।
























