
আন্তর্জাতিক কৃষি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সয়াবিন মজুদ রাখছে বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ ব্রাজিল। বাংলাদেশসহ বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দামে উত্থান-পতন দেশটির ওপর নির্ভর করে। সয়াবিনের তীব্র সরবরাহ সংকট থাকায় ভবিষ্যতে দাম বৃদ্ধির প্রত্যাশায় তারা সয়াবিন বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। ব্রাজিলের ব্রোকার, ক্রেতা ও বিক্রেতারা এ তথ্য জানিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স।
তবে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু দাম বাড়ানোর জন্যই নয়, বরং লা নিনোর প্রভাবেও শস্যটি মজুদ করছেন কৃষকরা। আগামী বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে সয়াবিন উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এছাড়া দেশটিতে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা আগামী কয়েক মাসে মুদ্রার বিনিময়মূল্য হ্রাস করতে পারে। এটিও সয়াবিন মজুদে ভূমিকা রাখছে।
ব্রাজিলের কৃষকরা রফতানিকারক এবং স্থানীয় প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে বেশি দামে সয়াবিন ক্রয়ে বাধ্য করছেন। ফলে গবাদি পশু খাদ্যের মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে চলতি বছরের শুরুতে সয়াবিন ও ভুট্টার বৈশ্বিক দাম আট বছরের সর্বোচ্চে উঠেছে। কৃষিবাণিজ্য-বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সাফ্রাস অ্যান্ড মার্কাডোর প্রাক্কলন অনুযায়ী, রিও গ্র্যান্ড ডো সাল ও পারানার মতো দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলোর কৃষকরা চলতি বছর উৎপাদিত ১ কোটি ২৪ লাখ টন সয়াবিন বিক্রির জন্য একত্র করেছেন।
রিও গ্যান্ড ডো সালের কৃষকরা জানান, সয়াবিন বিক্রির তাড়া নেই তাদের। প্রতি বুশেল সয়াবিনের দাম ১৪ ডলারে উন্নীত হওয়ার অপেক্ষায় আছেন তারা। পারানাভিত্তিক ব্রোকারেজ ফার্ম ওরিগেমের লরি গোমেজ বলেন, ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলে প্রাক্কলনের চেয়েও বেশি সয়াবিন মজুদ করা হয়েছে। স্থানীয় সয়াবিন মাড়াইকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রফতানি বাজারের চেয়ে অনেক বেশি দামে সয়াবিন ক্রয় করছেন। ব্রাজিলিয়ান সয়াবিনের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। কিন্তু বাজারে সংকট ও ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে দেশটিতে সয়াবিন রফতানি সীমিত হয়ে আসছে। চলতি বছর ব্রাজিল সরকার সয়াবিন রফতানির পূর্বাভাস কমিয়ে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টনে নামিয়ে এনেছে।
রিও গ্যান্ড ডো সাল ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় সয়াবিন উৎপাদনকারী রাজ্য। এ রাজ্যের কৃষকরা ৬ আগস্ট পর্যন্ত উৎপাদিত সয়াবিনের ৬২ শতাংশ বিক্রি করেছেন। এটি যেকোনো সময়ের গড় বিক্রির তুলনায় ১১ শতাংশ কম। অন্যদিকে পারানা রাজ্যের কৃষকরা এ পর্যন্ত উৎপাদিত ৭৮ শতাংশ সয়াবিন বিক্রি করেছেন। গত পাঁচ বছরের গড় বিক্রির তুলনায় এটি ২ শতাংশ কম। তবে আগামী বছর রাজ্য দুটি সবমিলিয়ে মাত্র ১২ শতাংশ সয়াবিন বিক্রি করবে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























