
এগ্রিকেয়ার ডেস্ক: মাত্র দু-মাসের ব্যবধানে হু-হু করে দাম বাড়ছে কৃষি যন্ত্রপাতির। এ দাম আগের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। কৃষি যন্ত্রপাতির বেশিরভাগ সরবরাহ করে চীন।
বৈশ্বিক সরবরাহ চাহিদা কমে যাওয়া ও কভিড পরিস্থিতিতে চীনে সপ্তাহে মাত্র দুদিন কারখানায় উৎপাদন চালু রাখা হয়েছে। বাকি পাঁচ দিন বন্ধ থাকছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। আর এতেই বাড়ছে যন্ত্রপাতির দাম। কনটেইনার শিপিং কস্ট বেড়েছে ১২৫ শতাংশ। ট্রাকভাড়াও বেড়েছে বলে দাবি আমদানিকারকদের। কৃষি, খাদ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন মেশিনারিজ সামগ্রীর জন্য প্রসিদ্ধ রাজধানীর নবাবপুর বাজার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মল্লিক মেশিনারিজের স্বত্বাধিকারী আলমগীর হোসেন জানান, চীনা ২০ ঘোড়ার ২৮০০ আরপিএমের মোটরের দাম এখন ৩২হাজার ৫০০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৩০ হাজার টাকা। ইতালীয় ব্র্যান্ড পেডরোলোর ২০ ঘোড়ার মোটর হয় না। সর্বোচ্চ সাত ঘোড়ার মোটর রয়েছে পেডরোলোর। জাহাজে ব্যবহৃত রিকনডিশন্ড সিমেন্স ব্র্যান্ডের ২০ ঘোড়ার মোটর ৫৫ হাজার টাকা। এগুলো মূলত জার্মানি ও জাপানের তৈরি। তবে এসব মোটরের দাম বাড়েনি। আলমগীরের মন্তব্য, এ ধরনের মোটরের কাজ একশতে একশ।
দেশে কৃষিকাজের যন্ত্র ডংফেং পাওয়ার টিলার ও সাইফেং পাওয়ার টিলারের একমাত্র এজেন্ট চিটাগং বিল্ডার্স অ্যান্ড মেশিনারিজ। তাদের শোরুমে থাকা চীনা ডংফেং পাওয়ার টিলারের দাম এক লাখ ২৮ হাজার টাকা বলে শেয়ার বিজকে জানান তারা, দুই মাস আগে যা ছিল এক লাখ ২৫-২৬ হাজার টাকা। আর চীনা সাইফেং মডেলের পাওয়ার টিলারের দাম এক লাখ ৪১ হাজার টাকা, যা দুই মাস আগে ছিল এক লাখ ৩৮-৩৯ হাজার টাকা। তবে পাওয়ার টিলারের ইঞ্জিনের দাম বাড়েনি বলে সেখানকার বিক্রয়কর্মীরা জানান।
বাসাবাড়ির পানি ওঠানোর কাজে ব্যবহৃত পেডরোলো ব্র্যান্ডের ২০ ঘোড়ার জেট পাম্প সবচেয়ে ভালো বলে জানান মল্লিক মেশিনারিজের স্বত্বাধিকারী। প্রতি মিনিটে এর পানি উত্তোলন ক্যাপাসিটি ১০০ থেকে ৭০০ লিটার। এর বর্তমান বিক্রয়মূল্য দুই লাখ ২০ হাজার টাকা। দুই মাস আগে ছিল এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর দুই ঘোড়ার জেটপাম্পের পানি উত্তোলনে প্রতি মিনিটের ক্যাপাসিটি পাঁচ থেকে ৮০ লিটার। এর বিক্রয়মূল্য ৩৮ হাজার টাকা, যা দুই মাস আগে ছিল ৩৬ হাজার টাকা।
ঈগল করপোরেশনের ম্যানেজার আল-আমীন জানান, ৫০০ লিটারের প্রতিটি কম্প্রেসারের দাম এখন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৬৫ হাজার টাকা। চীনা ছোট আকারের প্রতিটি কারওয়াশের দাম এখন ১২ হাজার টাকা, যা এক মাস আগে ছিল সাত হাজার টাকা। ২০ থেকে ২৪ কিলো জেনারেটরের দাম এখন তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা, যা দুই মাস আগে ছিল তিন লাখ ২০ হাজার টাকা।
মেশিনের চাকা ঘোরাতে ব্যবহৃত বেল্ট পাইকারি ও খুচরা দামে বিক্রি করে ইন্টারন্যাশনাল মিল স্টোর। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আমিরুল ইউছুফ বলেন, ‘আকারে চিকন প্রতি ইঞ্চি বেল্ট এখন দুই টাকা ৫০ পয়সা। দুই মাস আগে ছিল দুই টাকা ৪০ পয়সা। আকারে আরেকটু মোটা বেল্ট প্রতি ইঞ্চি এখন তিন টাকা ১০ পয়সা, যা দুই মাস আগে ছিল তিন টাকা পাঁচ পয়সা। আরও ভালো মানের বেল্ট প্রতি ইঞ্চি ছয় টাকা, যা আগে বিক্রি হতো ১০ পয়সা কমে। মিতসুবিশি ব্র্যান্ডের বেল্ট প্রতি ইঞ্চি ১২ টাকা। আর জার্মানির আপটি বেল্ট প্রতি ইঞ্চি ২০ টাকা।’
বিয়ারিং সেলস করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ৬২ দশমিক এক মডেলের বিয়ারিং প্রতিটি এখন ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ছিল ১৯০ টাকা। ৬২ দশমিক দুই মডেলের বিয়ারিং প্রতিটি এখন ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এক মাস আগে যা ছিল ২৩০ টাকা। বিয়ারিং সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর পণ্য বলে শেয়ার বিজকে জানিয়েছে বিয়ারিং সেলস। তারা এসকেএফ ও লিংকন ব্র্যান্ডের বিয়ারিংয়ের ডিস্ট্রিবিউটর।
শিপিং কস্ট ও মেশিনারিজ পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ নিয়ে সঙ্গে কথা বলেন ঈগল করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন রাসেল। তিনি বলেন, ‘২০ ফুটের কনটেইনার শিপিংয়ে দুই মাস আগে এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ ডলার খরচ হতো। এখন দুই হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার ৭০০ ডলার খরচ হচ্ছে। ৪০ ফুটের কন্টেইনার শিপিংয়ে দুই মাস আগে খরচ হতো দুই হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার ৭০০ ডলার। এখন চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার ডলার খরচ হচ্ছে। তবে শুধু শিপিং কস্টের কারণেই মেশিনারিজের দাম বাড়েনি, কভিড পরিস্থিতি ও ট্রাকভাড়াও এর জন্য দায়ী।’
চিটাগং বিল্ডার্স অ্যান্ড মেশিনারিজ (সিবিএম) গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদিন জামাল বলেন, ‘শিপিং কস্ট ১২৫ শতাংশ বেড়েছে। ১০০ ডলারের ব্যয় এখন ২২৫ ডলার হয়েছে। ম্যাটেরিয়ালসের দাম ৬০ শতাংশ বেড়েছে। আইটেম অনুযায়ী পণ্যের মূল্য বেড়েছে ৪২ থেকে ৬০ শতাংশ। কভিড সংকটের এ সময় চীনে সপ্তাহে দুই দিন কাজ হয়। পাঁচ দিন বন্ধ থাকছে কারখানা। পণ্য চাহিদা কম থাকায় উৎপাদনও কম হচ্ছে।’
কৃষি যন্ত্রপাতির দরদামের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল মেশিনারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বামমা) সিনিয়র সহসভাপতি শামীম ফয়সাল বলেন, ‘এ বিষয়ে সভাপতি ভালো বলতে পারবেন। আগামী ২৪ ডিসেম্বর তাদের সমিতির এজিএম। তিনি সেটি নিয়ে ব্যস্ত আছেন।’
গত রোববার বামমার সভাপতি খন্দকার মঈনুর রহমান জুয়েলকে সমিতির কার্যালয়ে না পেয়ে পরে মোবাইল ফোনে কল করা হয়। তিনি কল রিসিভ করেননি। আর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ঢাকার বাইরে রয়েছেন বলে বামমা সূত্রে জানা গেছে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























