জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী, এগ্রিকেয়ার২৪কম: কথায় আছে “কেউ মরে বিল সেঁচে, কেউ খায় কই”। খামারিরা কষ্টের দাম না পেলেও লাভ করছেন ব্যবসায়ীরা। রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। পাইকারিতে ৯০ টাকা কেজি কেনা হলেও এতে খামারিরা লাভ করতে না পারলেও পকেট গরম হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

রাজশাহীর সাহেববাজার মাষ্টারপাড়া কাঁচাবাজারের পাইকারি মুরগি বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, মুরগির দামে কিছু উঠনামা হয়েছে। পাইকারিতে ৯০-৯২ টাকা কেজি দাম থাকলেও ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খামারিরা ক দাম পেলেও আমাদের পকেটে কিছু থাকছে।

আরেক ব্যবসায়ী মিলন হোসেন এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, মুরগির দাম আর বাড়বে বলে মনে হয়। ঈদের হয়ে গেলো এখন কিছুটা বাড়তে পারে আবার নাও বাড়তে পারে। বলা যায় না পোল্ট্রি সেক্টরের কথা। হটাৎ আমদানি বেড়ে গেলে দাম কমে যায়। আবার বাজার টান পড়লে দাম বাড়ে। তবে লকডাউন ছুটলে বাড়বে।

এই ব্যবসায়ী জানান, বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০ টাকা, সোনালী ১৮০ টাকা। পাইকারিতে কিনেছেন ৯০ টাকা কেজি ব্রয়লার এবং সোনালী ১৫০ টাকা। রাজশাহীর বাজারে সাদা লেয়ার নাই তাই দাম বলতে পারব না বলে জানান তিনি।

বাজারের ডিম ব্যবসায়ী শামীম হোসেন এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। কাঁচাবাজারের ঠিক নাই। মাল (ডিম) একটু টান পড়লে দাম বাড়ে আবার ক্রেতা কমে গেলে বা চাহিদা না থাকলে দাম কমে যায়। প্রতিহালি (৪টি) লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকায়। সাদা ডিম ২৬ টাকা ও হাঁসের ডিম ৪০ টাকা হালি দরে বিক্রি করছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাদ্যের এবং বাচ্চার দাম অত্যন্ত বেশি। এখন বাচ্চার দাম কমেছে কিন্তু মুরগির দাম নাই। বস্তাপ্রতি খাদ্যেও দাম ফের বাড়ানো হয়েছে ১০০ টাকা। দাম বাড়ার কারণে মুলত বাচ্চা তুলছেন না খামারিরা। করোনার ভয়ে কয়েকমাস আগে খামারিরা বাচ্চা না তোলার কারণে এখন তৈরি মুরগি বাজারে টান পড়ে। এখন আবার বাজারে মুরগি আছে, তাই দাম কম। তবে, এখন যে বাজার আছে তাতে আমাদের লাভ হচ্ছে। কমে গেলে লাভ থাকেনা।

আজ বুধবার (২৮ জুলাই ২০২১) নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

রাজশাহী পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, রাজশাহীতে ৬০ ভাগ খামার ফাঁকা হয়ে গেছে। বার্ড ফ্লু রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক মুরগি মারা গেছে। ভয়ে আর নতুন বাচ্চা তুলছেন না খামারিরা। আগের মতো আবার মুরগির দাম বাড়বে। এখন যা একটু কমেছে তাও থাকবে না।

ডিমের দাম বাড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিমের দামও বাড়বে। অনেক লেয়ার খামারি মুরগি বিক্রি করে দিচ্ছেন। খাদ্যের দাম বেড়েছে তিন মাসে ১৫০ থেকে ১৭৫ টাকা। এই দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। সরকার সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না। বৈশ্বিকভাবে দাম ১২ টাকা থেকে ১৩ টাকা বাড়লে বাংলাদেশে সিন্ডিকেটে দাম বাড়ায় ৭০-৮০ টাকা। এটা কোন নীতি নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইসমাঈল হক এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, করোনায় খামারিরা বেশ লোকসানে পড়েছেন। সরকার প্রণোদনা সহায়তা দিয়েছে যাতে তারা একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ