নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে বাতাসে দুলছে সোনালী ধান । দু’চোখ যেদিকে যায় শুধু ধান আর ধান।। পরিপক্ক ধানের ভারে নুইয়ে পড়েছে শীষ। কৃষকের ঘামঝরা স্বপ্নের ফসল ইতোমধ্যে কাটাও শুরু হয়েছে। ঝাড়াই, বাছাইয়ের পর হচ্ছে বস্তাবন্দি, ভরছে গোলা। এ ধান কাটতে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

রাজশাহীর মোহনপুরে শ্রমিকের সংকট দেখা দেওয়ায় উপজেলা মোহনপুর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে ১০, ১৫ জনের একটি দল রায়ঘাটি ইউনিয়নের চক আলম দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক আজাহার আলীর প্রায় দুই বিঘা জমির পাকা ধান কেটে দেন।

৭ মে বৃস্পতিবার হিন্নার বিলে হাটরা গ্রামের প্রতিবন্ধী কৃষক সুরন্জিত সরকারের পৌনে ৩ বিঘা মাটির বোরো ধান উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে কেটে মাড়াই করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে বিপদগ্রস্থ অসহায় কৃষকের ধান কেটে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ধান কাটার জন্য শ্রমিকের সংকট হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে আমাদের নেতাকর্মীরা অসহায় কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে। যতদিন কৃষকের ধান কাটার জন্য শ্রমিকের সংকট থাকবে এবং কৃষকরা তাদের সহায়তা চাইবে ততদিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের পাশে দাঁড়াবে বলে জানান তিনি।

কৃষক সুরন্জিত সরকার বলেন, এ বছর ধানের ফলন ভাল হয়েছে। করোনা সংক্রমনরোধে ঘরে অবরুদ্ধ থাকায় ধান কাটতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা। যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের দ্বিগুণ মজুরি দিতে হচ্ছে। আমার ধান কেটে দেওয়ায় আমি অনেক খুশি।

ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের বেলনা গ্রামের কৃষক নওশাদ আলী বলেন, ৩০ বিঘা জমিতে বোরোচাষ করেছি। এর মধ্যে প্রায় ৫ বিঘা জমির ধান গোলায় তুলতে পেরেছি। ফলন ভাল হয়েছে। দামও ভাল পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রহিমা খাতুন বলেন, বেরো ধান ভাল হয়েছে। রোগবালাই কম ছিল। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে কৃষকরা ভাল ফলন পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।

উল্লেখ্য, বোরো চাষে রাজশাহী জেলার একটি অন্যতম উপজেলা হিসেবে পরিচিত মোহনপুর উপজেলা। চলতি মৌসুমে এখানে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোধানের চাষ করা হয়েছে। উপজেলার উল্লেখযোগ্য হিন্না, বিলকুমারী, তিলাহারি, জাউই, ঢোরসা,মগরা,ধুরইলবিলসহ শীব নদের দু’পাশের ধান কাটা শুরু হয়েছে।