নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: খুলনা থেকে দেশী জাতের নারকেল চারা ৭০ টাকা প্রতিপিস কিনে ভিয়েতনামী বলে বিক্রি করা হয় বলে অভিয়োগ নাটোরের কৃষি উদ্যোক্তা সেলিম রেজার।

সেলিম রেজা এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, কিছু কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন এবং আমি নিজেও জানি। খুলনা থেকে দেশী জাতের নারকেল চারা ৭০ টাকা প্রতিপিস কিনে ভিয়েতনামী বলে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে একদল অসাধু ব্যবসায়ী। দেশী চারা জার্মিনেট করে কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে কৃষকদের প্রতারণা করা হয়।

ফল উৎপাদনে প্রযুক্তির ব্যবহার, দেশীয় ফলের প্রসার এবং সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করছেন নাটোরের কৃষি উদ্যোক্তা সেলিম রেজা। জেলার সদর উপজেলার আহমেদপুরে ‘দৃষ্টান্ত এগ্রো ফার্ম এন্ড নার্সারি’ নামে প্রায় দেড়শ’ বিঘা ফল সাম্রাজ্য রয়েছে তার। সেখানে শতাধিক জাতের ফলের উৎপাদন করেছেন তিনি।

প্রায় ৭ বছর আগে ১০৭ টি ভিয়েতনামী নারকেল গাছ রোপন করেন লাভের আশায়। ২৪ মাসের মধ্যে ফলন আসার কথা থাকলেও সাত বছরেও ফলন আসেনি। তাই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে ক্ষোভে নিজের বাগানের ১০৭টি ভিয়েতনামি খাটো জাতের নারিকেল গাছ কেটে ফেলছেন সুপরিচিত এই কৃষি উদ্যোক্তা। এতে তার ২০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ।

চারা বিক্রির উদ্যেশ্যে ফেসবুক ইউটিউবে মিথ্যা মুখরোচক বিজ্ঞাপন দিয়ে হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি নষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। দেশের প্রধান পেয়ারা চাষী এই উদ্যোক্তা কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখায় জাতীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ১১টি পুরস্কার পেয়েছেন। এই কৃষি উদ্যোক্তার ঝুলিতে রয়েছে কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ মোট ৭৪টি পুরস্কার।

কৃষক সেলিম রেজার বলেন, কিছু সরকারি দপ্তরের মোসাহেবি কর্মকর্তার কারণে দেশের লাখো নতুন কৃষি উদ্যোক্তা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হচ্ছেন। হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। ফেসবুক ইউটিউবে মিথ্যা মুখরোচক বিজ্ঞাপন দেখে দেশের মানুষ পাগলের মতো বিদেশী ফলের চারা কিনে প্রতারিত হচ্ছে। তিনি নিজেও এমন চারা কিনে প্রতারিত হয়েছেন। এসব চারা নিয়ে দেশে কোন গবেষণা নেই।

গত বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার আহমেদপুর এলাকায় এই গাছ কাটার ঘটনা ঘটে। প্রায় ৬ বছর আগে সোয়া ২ বিঘা জমিতে নারিকেল বাগানটি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। সেলিম রেজার অভিযোগ, ভিয়েতনামি খাটো জাতের নারিকেলের অধিক ফলন হবে এমন আশ্বাস দিয়ে নাটোর হর্টিকালচার সেন্টারের কর্মকর্তারা প্রচারণা চালায়। তাদের কথা বিশ্বাস করে নাটোরের প্রথম কৃষক হিসাবে লাভের আশায় তিনি সেই নারকেল গাছ রোপন করেন। গাছ বড় হয়েছে কিন্তু নারকেল ধরেনি। এরপরই গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেন।

চটকদার বিজ্ঞাপন আকৃষ্ট হয়ে কোনও উদ্যোক্তা যেন প্রতারিত না হয় সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে উল্লেখ করে সেলিম রেজা বলেন, কোন গাছটা এ দেশের আবহাওয়া উপযোগী তা জেনে গাছ লাগাতে হবে।

গত তিন বছর ধরে এই নারকেল চারা বিক্রি বন্ধ রাখলেও নাটোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক মাহমুদুল ফারুক জানান, সঠিক পরিচর্যা না করায় ভিয়েতনামি খাটো জাতের নারিকেল গাছে ফল আসেনি।

এগ্রিকেয়ার/ এমএইচ