
মাহফুজ, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কৃষির শস্য ভান্ডার খ্যাত উত্তরবঙ্গের কুড়িগ্রামের কৃষি মাঠে চোখ মেলালেই দেখা মিলছে সবুজের সমাহার। বোরো ধানের সবুজের পাতায় ঘিরে গেছে চারদিকে।
কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলার মতো ফুলবাড়ীতেও চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে চারা রোপণের পর ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান চাষীরা। কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় রোপণ করা চারা দ্রুত বেড়ে উঠেছে। সবুজে ছেয়ে গেছে ধানক্ষেত। বসন্ত বাতাসে ফুলবাড়ীর দিগন্ত জুড়ে দোল খাচ্ছে সবুজের ঢেউ।
মাঠের পর মাঠ সবুজে আচ্ছাদিত ক্ষেত দেখে মনে হয় এখানকার কৃষকরা যেন প্রধানমন্ত্রীর কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। কোথাও দেখা মেলে না পতিত জমির। সারাদিনে কৃষাণ- কৃষাণী আর কৃষি শ্রমিকের কর্মব্যস্ততায় মুখরিত ফসলের মাঠ। আর দিগন্ত জুড়ে সবুজের মাঝেই বোরোর বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা।
কৃষকদের স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে ক্ষুধামুক্ত, খাদ্যে স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার। আর এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ফুলবাড়ীর কৃষিতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। চলতি মৌসুমেও কৃষি অফিসের পরামর্শে আধুনিক জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন এখানকার কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে উফশী জাতের ব্রিধান-২৯, ৭৪, ৮১, ৮৬, ৮৮, ৮৯, ৯২, ৯৬, হাইব্রিড জাতের কৃষিবীদ, হীরা- ২, ৫, ৬ সোনার বাংলা-৬, তেজ গোল্ড, সুগন্ধা, বেবিলন-২, নাফকো, জনক রাজ ও স্থানীয় জাতের ধান চাষাবাদ হচ্ছে। কৃষক পর্যায়ে নতুনভাবে চাষাবাদ করণের লক্ষ্যে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও শ্রমিক নির্ভরতা কমাতে যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে ধান চাষের বিষয়ে কথা হয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের সাথে। শাহবাজারের ধানচাষী শাহজাহান আলী, সিরাজ আলী ও বাদশা সরকারের সাথে আলাপকালে তারা এগ্রিকেয়ার২৪.কম কে বলেন, চারা রোপণের পর থেকেই সময় মত সেচ, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, নিড়ানি দেয়াসহ কৃষি অফিসের পরামর্শ মতো ক্ষেতের পরিচর্যা করে আসছি।
উত্তরবঙ্গের পরিশ্রমী এসব কৃষকেরা বলেন, ধান ক্ষেতের অবস্থা আপাতত ভালোই দেখা যাচ্ছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের আমতলা গ্রামের কৃষক, জয়নাল আবেদীন, মাইদুল হক ও আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা কৃষি অফিসের পরামর্শ মত বীজ বপন করে রাইসট্রান্সপ্লাটারের মাধ্যমে চারা রোপণ করছি
তারা আরও জানান, যন্ত্রের মাধ্যমে রোপণ করা ক্ষেতের চারা অন্যান্য ক্ষেতের চেয়ে খুব দ্রুত বেড়ে উঠছে। বর্তমানে ক্ষেতের চেহারাও খুব ভালো। আমরা আশাকরি অন্যান্য বারের চেয়ে এবারে কম খরচে অধিক ফসল ঘরে তুলতে পারবো।
আলাপকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন এগ্রিকেয়ার২৪.কম কে বলেন, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ীতে ৯ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষকরা বোরো চাষে ঝুঁকে পরায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক ১০ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। আমাদের সকল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন
গত কয়দিনের রাত ও দিনের তাপমাত্রার তারতম্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ক্ষেতে ছত্রাক জনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সেজন্য আমরা অনুমোদিত মাত্রায় হেক্সাকোনাজল ও প্রপিকোনাজল গ্রুপের ঔষধ স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষকরা পরামর্শ অনুযায়ী ক্ষেতের পরিচর্যা করলে ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে কৃষকেরা বাম্পার ফলন পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
























