
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: চলতি খরিপ মৌসুমের শুরুতেই বাড়তি সবজির দাম। রাজশাহীর বাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। বাজারে নতুন সবজি সজনে ডাটার কেজি ১২০ ও করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। সপ্তাহখানেক আগের সেঞ্চুরি করা করলা ৩০ টাকা কমে ৫৫-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সবজির চাহিদা থাকায় দাম বেশি।
এছাড়া পুরো বছর জুড়েই সবজির দাম কমেনি। রমজানের আগে সবজির দাম বাড়ে প্রতিবছরই। এছাড়া বাজারে নতুন সবজি এলেই তার চড়া দাম থাকা স্বাভাবিক। সে হিসেবে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সজনে ডাটা।
শনিবার (২৬ মার্চ ২২) রাজশাহীর সাহেব বাজার মাস্টারপাড়া, উপশহর নিউমার্কেট, লক্ষীপুর নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে, রমজানের আগেই মাংসের বাজারে মুরগি, গরু ও খাশির মাংসের দাম বেড়েছে। গতবছরের তুলনায় প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির মাংসে ২০ টাকা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় ঠেকেছে। এছাড়া গরুর মাংসে ২০ টাকা বেড়ে ৬০০ এবং খাশির মাংসে ৫০ টাকা বেড়ে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩০ টাকা। প্রতিকেজি পাতিহাস বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা যা আগে ছিল ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা, রাজহাঁস ৪২০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজশাহীর বিভিন্ন সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০, লাউ ৫ টাকা কমে ২০ টাকা পিস, কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শশা ৫০ টাকা, প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১০ টাকা কমে ২৫ টাকা, বেগুন মানভেদে ২৫-৩০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, আলু ১৫-২০ টাকা, আদা ও রসুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা ও শিম ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লেবুর হালিতে বেড়েছে ৫ টাকা; যা ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবু ব্যবসায়ীরা বলছেন, শরবতের কারণে লেবুর চাহিদা বেড়ে যায় তাই দাম একটু বাড়ে।
মুরগি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, ব্রয়লার মুরগির দাম নতুন করে বাড়েনি। প্রতিকেজি বিক্রি করছেন ১৬০ টাকা। আর সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। তবে, দু- এক জায়গায় ৫-১০ টাকা বেশি নিতে পারে। কারণ, সাহেববাজারের তুলনায় উপশহর নিউমার্কেট এলাকার বাজারে বেশি দামে বিক্রি হয়। শুধু মাংস নং, সব ধরনের সবজি।
রাজশাহী নিউমার্কেটের মুরগি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বেশি। রোজার সময় একটু ভালো খাবার খাওয়ার কারণে সব ধরনের মাংসের চাহিদা রয়েছে। সকাল ৯ টা থেকে রাত ১০-১১ টা পর্যন্ত দোকান চলে। সোনালী ২৮০ টাকা দরে বিক্রি করছি। সাধারণত বাসাবাড়িতে খাওয়ার জন্য কিনেন ক্রেতারা। এ কারণে অনুষ্ঠান বেশি হলে ব্রয়লার মুরগির তুলনায় সোনালি মুরগি বেশি বিক্রি হয়। এখন রোজাতেও বিক্রি হবে।
সবজির দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে সাহেববাজার মাস্টারপাড়া সবজি ব্যবসায়ী হামিদ মিঞা জানান, এবার শীতকালীন সবজির দামও চড়া ছিল। এক সপ্তাহখানেক কম থাকলেও পরে থেকে চড়া দামে বিক্রি হয়েছে।
মাছের বাজারে ঘুরে দেখা যায়, বড় ইলিশ কেজিতে ১১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, ছোট ইলিশ গত সপ্তাহের মতই ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, চিংড়ি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি যা গত সপ্তাহের চেয়ে ১শত টাকা কম, রুই মাছ কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ২৪০ টাকা কেজি, মিড়কা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা, টেংরা মাছ কেজিতে ১শত টাকা বেড়ে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে ডিমের বাজারে লাল ডিম হালিতে এক টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা হালি, সাদা ডিম ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা হালি, হাঁসের ডিম ৬৫ টাকা ও কোয়েলের ডিম প্রতিপিস ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























