নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: দেশে আলু উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বৃহত্তম জেলা রংপুর। চলতি বছর বাম্পার ফলন হয়েছে আলুর। এছাড়া গত দুই বছরের তুলনায় বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। এদিকে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে রংপুরে উৎপাদিত সাদা আলু।

রংপুর বিভাগীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এই অঞ্চল থেকে বিদেশে আলু রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে পীরগাছা। এ বছর প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনায় আরো বেশি উৎপাদনের তাগিদ কৃষি বিশেষজ্ঞদেরও।

পড়তে পারেন: এবার ২ লাখ মেট্টিক টন আলু বিদেশে রপ্তানি

আলুর বাম্পার ফলনেও সর্ববৃহৎ উৎপাদনকারী জেলা রংপুরেই প্রতি কেজি মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকায় বিক্রি করতে হতো। গেল ১৭ মার্চ পীরগাছা থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সাড়ে চার হাজার মেট্রিকটন রপ্তানি শুরু এবং রাশিয়াসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশ আমদানিতে আগ্রহ দেখানোয় কাটছে সেই করুণদশা।

সাদা জাতের প্রতিটির ওজন একশ গ্রামের উপরে আলু মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের পছন্দ। এই চাহিদা বিবেচনায় সান্তা, ডায়মন্ড, কুমারিকা, গ্রানুলা, কুম্বিকা এলুয়েট, এস্টারিকস, সানসাইনসহ উন্নত জাতের সাদা আলু উৎপাদনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও বীজ সরবরাহ করে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে পীরগাছায় ৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৯ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়। ২০২০ সালে ৪২৫ মেট্রিক টন এবং ২০২১ সালে ৬৫০ মেট্রিক টন আলু বিদেশে রপ্তানি হয়েছিল। পীরগাছায় চলতি বছর ৯ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু বিদেশে রপ্তানি হবে। মানসম্পন্ন এই আলু উৎপাদনে ২০০ কৃষককে প্রশিক্ষিত করে রপ্তানি যোগ্য আলু উৎপাদনে সহায়তা করেছে কৃষি বিভাগসহ বিএডিসি।

উপজেলা থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদেশে আলু রপ্তানিতে আশার আলো দেখছেন কৃষকেরা। এ ছাড়া স্থানীয় বাজারেও দাম বেশ ভালো। জমি থেকে প্রতি কেজি আলু ১২ থেকে ১৩ টাকা দরে বিক্রি করছেন কৃষকেরা, যা গত বছর ৭ থেকে ৮ টাকা ছিল।

পড়তে পারেন:

শুক্রবার (২৫ মার্চ) উপজেলার পারুল ছিদাম বাজার এলাকার কৃষকরা জানায়, বর্তমানে হেক্টরে ৬০ মণ আলু উৎপাদন হয়। আলু রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মাসোয়ারা এগ্রোর কাছে বেশিরভাগ কৃষক আলু বিক্রি করে।

পীরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আলম এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, এস্টেরিকস, এলুয়েট জাতের আলু  নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় রপ্তানি করছি। এছাড়া শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি শুরু হয়েছে। আগামী বছর আলুর উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে কাজ করছি। কৃষকদের লাভবান করতে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিযোগ্য আলু চাষাবাদ করে বাইরে পাঠাতে চাই।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকমল হোসেন জানান, গতবারের চাষাবাদের তুলনায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর বেশি আলু চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় রেকর্ড ৫১ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এবার আমরা উন্নত জাতের বীজ সরবারহ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষিত করে বিদেশে আলু রপ্তানি শুরু করতে সক্ষম হয়েছি। এখন যেভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে আলু কেনার চাহিদা বাড়ছে, তাতে করে রংপুর থেকে আলু রপ্তানির পরিমাণ ৫০ হাজার টনের কাছাকাছি যাবে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ