মৎস্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: স্বল্প খরচেই পুকুর কিংবা দিঘীতে চাষ করতে পারবেন লাভজনক মনোসেক্স তেলাপিয়া। চাষের ক্ষেত্রে তেলাপিয়া খুবই লাভজনক বলে জানা যায়। তবে সম্প্রতি বাজারে এই মাছের চাহিদা ও লাভের পরিমাণ বেশ ভালো বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তারা।

তবে এখনো এটি অন্যান্য মাছের তুলনায় খরচ ও বিক্রির ভিত্তিতে লাভজনক বলে জানান তারা। প্রতি একর জলাশয় বা পুকুর থেকে চার থেকে পাঁচ মাসে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করা যায়। আর এই পরিমাণ জলাশয়ে তেলাপিয়া চাষে খরচ হয় দেড় লাখ টাকার মতো। এ বিষয়ে ড. এ এইচ এম কহিনুর বলেন, “দেড় লাখ টাকা বিনিয়োগ করে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লাভ করা যায়।”

মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের কর্মকর্তারা বলছেন, তেলাপিয়া মাছ চাষ শুরু করতে চাইলে মধ্যম গভীরতার একটি পুকুর বা জলাশয় থাকতে হবে। পানির গভীরতা তিন থেকে চার ফুট হলেই সেখানে তেলাপিয়া মাছ চাষ করা সম্ভব।

পুকুরটি অবশ্যই ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে। পুকুরের তলায় কোন ময়লা আবর্জনা থাকলে সেটি পরিষ্কার করতে হবে। পাড় মেরামত করতে হবে। পুকুর পাড়ে কোন আগাছা বা গাছপালা থাকলে পরিষ্কার কিংবা ছেঁটে দিতে হবে।

পুকুরে প্রতি শতাংশে এক কেজি পরিমাণ চুন ছিটিয়ে দিতে হবে। এর তিন দিন পরে ১০০ গ্রাম টিএসপি সারের সাথে ৫০ গ্রাম ইউরিয়া মিশিয়ে ছিটিয়ে দিতে হবে। সার দেয়ার পর পানির রঙ যখন সবুজ হবে তখন সেখানে তেলাপিয়া মনোসেক্স জাতের পোনা ছাড়তে হবে।

মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এইচ এম কহিনুর বলেন, প্রতি শতকে ২০০-২৫০টি পোনা মজুদ করা যায়। “লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে পোনার ওজন ৫-৬ গ্রাম পরিমাণ হয়।” এসব পোনাকে সপ্তাহে ৫-৬ দিন খাবার দিতে হবে।

২৫-২৮% প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত দিলে বৃদ্ধি ভাল হয় এবং চার থেকে ৫ মাসের মধ্যে প্রতিটি তেলাপিয়ার ওজন ২৫০-৩০০ গ্রাম ওজনের হয়। মাছের ওজন ৩০০ গ্রামের মতো হলেই সেটি আহরণ করতে হবে।

তেলাপিয়া মাছ আহরণের ক্ষেত্রে পুরো পুকুর শুকিয়ে ফেলতে হবে। জাল দিয়ে মাছ ধরলে ৬০% মাছ ধরা সম্ভব বলে মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের তথ্যে জানা যায়। বাকি ৪০% মাছ পুকুরের তলায় থেকে যায়। যার কারণে সব মাছ ধরতে হলে পুকুর শুকিয়ে ফেলতে হবে।

এ কারণে যেসব পুকুর সহজেই শুকিয়ে ফেলা যায় সেরকম পুকুরে তেলাপিয়া চাষ করা উচিৎ বলে মনে করেন মৎস্য কর্মকর্তারা। এক বার মাছ ধরার কিছুদিন পর একই পুকুরে আবার মাছ চাষ করা যায়। তবে এক্ষেত্রে যদি পুকুরের তলদেশে অর্গানিক ডিপোজিট অর্থাৎ বর্জ্য বেশি থাকে তাহলে সেগুলো পরিষ্কার করে নিতে হবে।

তেলাপিয়া মাছ চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি, পোনা উৎপাদন এবং প্রযুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে আসছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট। বিভিন্ন ধরণের মাছ চাষ পদ্ধতি নিয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে থাকে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি।

এই প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এইচ এম কহিনুর বলেন, বর্তমানে দেশে তেলাপিয়া মাছের খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এবং মাছের দাম কমে যাওয়ার কারণে নতুন একটি চাষ পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

আর পদ্ধতিটি হচ্ছে, তেলাপিয়ার সাথে শিং এবং মাগুর মাছের চাষ। “এই পদ্ধতি খুবই লাভজনক,”তিনি বলেন।

তিনি জানান, এই পদ্ধতিতে তিন ধরণের মাছ এক সাথে চাষ করা হলেও শিং এবং মাগুর মাছের জন্য আলাদা খাবার খুব কম দরকার হয়। প্রায় একই পরিমাণ বা কিছুটা বেশি খাবার দিয়ে একই পুকুর থেকে আলাদা ধরণের বেশি পরিমাণ মাছ সংগ্রহ করা সম্ভব। বাজারে শিং এবং মাগুর মাছের চাহিদাও বেশি বলে জানান তিনি।

এক্ষেত্রে এক হেক্টর জমি পরিমাণ পুকুর থেকে এক ফসলে ১৪-১৫ টন মাছ আহরণ করা সম্ভব বলে জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ