
মেহেদী হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীর শালবাগান এলাকার ফলের আড়তে ট্রাকভর্তি তরমুজ নিয়ে এসেছেন দ্বিজেন্দ্রনাথ সরকার। খুলনার কয়রা থেকে ৩ হাজার পিস তরমুজ নিয়ে বিপাকে এই চাষি। জানতে চাইলে বলেন, “ক্ষেতে গিয়ে কেনার জন্য বায়না (অগ্রিম টাকা) দিয়েছিলেন কিন্তু দাম কমায় ক্রেতারা যাননি। তরমুজ নিয়ে এখন জেলায় জেলায় ঘুরছি, এখানেও কেনার কেউ নাই।”
কয়রা উপজেলার পাঁয়গাছা পাতড়াবুনিয়া এলাকায় ৭ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ। বিঘাপ্রতি হাজার দশে’ক করে টাকা খরচ করেছেন। আশা করেছিলেন আড়াইলাখ টাকার তরমুজ বিক্রির। বিধি বাম। এখন ৭ বিঘায় এক লাখ টাকা তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। ঘরের ধান বিক্রি করে ট্রাকভাড়া করে প্রায় ৩০০ মণ তরমুজ নিয়ে এসেছেন রাজশাহীতে। চোখে- মুখে বিষন্নতার ছাপ কারণ, দাম পাবেন না আশানুরুপ।
রোজার তুলনায় রাজশাহীর বাজারে তরমুজের দাম অর্ধেকেরও কম। রোজার সময় যে তরমুজ ৩০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে সেই আকারের তরমুজ সর্বোচ্চ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
রোববার (১৫ মে) নগরীর শালবাগান, সাহেববাজার মাস্টারপাড়া সবজিবাজার ও উপশহর নিউমার্কেট ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন বাজারে যেসব তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে তার বেশিরভাগ খুলনা ও সাতক্ষীরার। বরিশাল অঞ্চলের শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে, বরিশালের তরমুজ আকারে তুলনামূলক ছোট হলেও স্বাদ অনেক বেশি।
হঠাৎ করে তরমুজের দাম কমে অর্ধেক হওয়ার কারণ হিসেবে জানতে চাইলে তরমুজ চাষি দ্বিজেন্দ্রনাথ বলেন, তরমুজ মাঝারি আকারের হলে বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা ক্ষেতে গিয়ে চাষিদের বায়না (অগ্রিম টাকা) দিয়ে আসতো। বাঁকি টাকা তরমুজ নেওয়ার সময় পরিশোধ করতো। এবার ঈদের পর দাম কমে যাওয়ায় ঐসব ব্যবসায়ীরা তরমুজ নিতে যাননি। ফলে ক্ষেতে রয়ে গেছে আশার ফসল। পরে বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুধু বরিশালের নয়, কয়েকদিন ধরে যে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে চাষিরা খেত থেকে বেশি পরিমাণে তরমুজ তুলে বাজারে সরবরাহ করছেন। বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়াই তরমুজের দাম কমার একমাত্র কারণ।
জানতে চাইলে ফল ব্যবসায়ী ডলার জানান, এখন বাজারে মৌসুমি ফল লিচু এবং আম ওঠা শুরু হয়েছে। রোজার সময় গ্রীষ্মের ফল হিসেবে কেবল তরমুজই পাওয়া যেতো তখন চাহিদাও ছিল বেশি। এখন অন্যান্য ফলের সরবরাহ থাকায় তরমুজের তেমন চাহিদা নাই। কোনমতে কেনা মাল বিক্রি করে দিতে পারলেই বাঁিচ। কিন্তু আরেকটা ব্যাপার হলো- আগে আমরা তরমুজ কিনে নিয়ে আসতাম এখন চাষিরা ট্রাকে করে আমাদের কাছে নিয়ে আসছে।
দাম জানতে চাইলে তিনি জানান, ৭ থেকে ৮ কেজির বড় তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। ঈদের আগে এই সাইজের তরমুজ বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। বর্তমানে ছোট তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকায়, যা ঈদের আগে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
খুলনার আরেক চাষি বিশ্বজিৎ রায় এসেছেন তরমুজ নিয়ে। তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাষিদের মার দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। পরে ব্যবসায়ীরাও মার খেয়েছে। যারা ৫-৭ টন মাল কিনেছিল তারা বিক্রি করতে না পেরে ধরা খেয়েছে। খুলনায় সব ধরনের তরমুজের দাম এখন অনেক কমে গেছে। রোজার মধ্যে বরিশালের যে তরমুজ ৫০০ টাকা বিক্রি হয়েছে, এখন তা ২০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে না। খুলনার কিছু তরমুজ ঈদের আগে ৪০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে। সেই তরমুজ এখন ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সামনে মৌসুমে তরমুজ চাষ কমে যাবে।
শালবাগানের ফল ব্যবসায়ী ফাইটার বলেন, তরমুজের দাম অনেক কমে গেছে। আগে যে তরমুজ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন সেই তরমুজ ১৫০ টাকায় বিক্রি করছি। আগের তুলনায় এখনকার তরমুজ লাল ও মিষ্টি বেশি। তবে মান ভালো ও দামে কম হলেও এখন বিক্রি সেভাবে হচ্ছে না।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























