
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: শীতের আগমনে রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দামে স্বস্তি ফিরেছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে দাম কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। অন্যদিকে কমেছে মাছ, মুরগি, ডিম মাংসের দাম। সবমিলিয়ে ভোক্তারা কিছুটা হাফ ছেড়ে বাঁচলেও চাল-আটার দামে কুঁকড়ে যাওয়ার অবস্থা।
শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ ও হাতিরঝিল কাঁচা সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়-কমেছে সব ধরণের সবজির দাম।
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী হালিম মিঞা বলেন, সবজির দাম এখন অনেক কম। বেগুন বিক্রি করেছি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এখন সেই বেগুন মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকা। কপি, মুলা, পালং সব শাক-সবজির দাম কমেছে। আর বাড়বে না। বাজারে নতুন করে পাতাসহ পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে। এতে অন্যান্য পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। এখন বাজারে দেশি পেঁয়াজ ১১০ এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০, করলা ৫০, কচু লতি ৪০, মুলা ২০, বেগুন ৩০, কাঁচা মরিচ ৬০, টমেটো ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ১০০ (আকার ভেদে), নতুন আলু ৬০, শসা ৪০, ঢেঁড়স ৪০, পাতা পেঁয়াজ ৫০, শালগম ৩০ এবং প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী সামছুদ্দিন বলেন, ডিমের দাম শীতের সময় বাড়ে কিন্তু এবার বাড়ার সম্ভাবনা নাই। ভারত থেকে ডিম আমদানি করে দাম কমিয়েছে সরকার। কিন্তু দেশের খামারিরা বিপদে। লাল ডিম প্রতি হালি ৪০ টাকা ও ডজন ১২০ টাকায় বিক্রি করছি। এ ছাড়া সাদা ডিম প্রতি হালি ৩৭ ও ডজন ১১০ এবং হাঁসের ডিম প্রতি হালি ৬০ ও ডজন ১৮০ টাকায় বিক্রি করছি।
গত ১৫ দিন আগের বাজারদর পর্যালোচনা করে গেছে বাজারে সবজির দাম কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। গত এক থেকে দেড় মাস আগেও যেখানে বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজির দেখা মিলেনি সেখানে সেই একই সবজি অর্ধেকে নেমেছে। ডিমের হালি ছিল ৪৫ টাকার ওপরে। সেখানে বর্তমানে সর্বনিম্ন ২০ টাকায় সবজি এবং ডিম ৪০ টাকায় কেন সম্ভব হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে গমের দাম বাড়ায় আটা ও ময়দার দামও বেড়েছে। খোলা আটা কিনতে এখন ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে কেজিতে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। আর প্যাকেট আটার কেজি কিনতে খরচ হচ্ছে কমবেশি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। একইভাবে খোলা ময়দা ৬০ থেকে ৬৫ এবং প্যাকেট আটা ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিতিশীল চিনির বাজারে কোনো সুখবর নেই। খোলা চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা দরে। অন্যদিকে বাজারে প্যাকেটজাত চিনির সরবরাহ নাই বললেই চলে। মিললে তার জন্য গুনতে হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা।
গরুর মাংসের পাশাপাশি দাম কমেছে মুরগির। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০ থেকে ১৭৫ এবং সোনালি জাতের মুরগির কেজি ২৭০ থেকে ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সাদা ও বাদামি রঙের ডিমের ডজন পাওয়া যাচ্ছে যথাক্রমে ১১০ ও ১২০ টাকার মধ্যে। বাজারে এখন মাছের সরবরাহ ভালো।
তাছাড়া মাংসের দাম কমার প্রভাবও পড়েছে মাছের দামে। বেশি কমেছে চাষের মাছে। মাঝারি মানের চাষের পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। বড় আকারের চাষের তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা। আর মান ও আকারভেদে চাষের রুই মাছের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। তবে চিংড়ির দাম তেমন কমেনি। প্রতি কেজি কিনতে এখনও গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ/২০২৩
























