
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
মুরাদনগর উপজেলা-এ প্রথমবারের মতো উচ্চমূল্যের সবজি ক্যাপসিকাম চাষ শুরু হয়েছে। নতুন এই ফসলের আবাদে ইতোমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষি বিভাগের সহায়তায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে তৈরি হয়েছে নতুন আশার আলো।
জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর আওতায় কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে চলতি রবি মৌসুমে প্রায় ২ হেক্টর জমিতে প্রদর্শনীর ভিত্তিতে ক্যাপসিকাম আবাদ করা হয়েছে। উপজেলার কামাল্লা, ধামঘর, মুরাদনগর, বাঙ্গরা পূর্ব, নবীপুর পশ্চিম, নবীপুর পূর্ব ও আকবপুর বাবুটিপাড়াসহ মোট ১৪টি ইউনিয়নে এ ফসলের চাষ শুরু হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ক্যাপসিকাম ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর সবজি। সালাদ, ফাস্টফুড ও আধুনিক বিভিন্ন খাবারে এর ব্যবহার ব্যাপক হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশ ভালো। ফলে কৃষকদের জন্য এটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি বিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম চাষে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারলে প্রতি বিঘা জমি থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব।
ইতোমধ্যে উপজেলার বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষক তাজুল ইসলাম, ধামঘর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম ও আমির হোসেন, আলিরচর গ্রামের ফাতেমা বেগম, কামারচর গ্রামের রকিব উদ্দিন এবং বাবুটিপাড়া গ্রামের মো. জামসেদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন কৃষক ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করেছেন।
পরমতলা গ্রামের কৃষক আমির হোসেন জানান, তিনি প্রথমবারের মতো ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন। বাজারে এই সবজির ভালো দাম থাকায় তিনি লাভের আশা করছেন। তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জৈব সার, রাসায়নিক সার, পলি মালচিং ফিল্ম ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ সহায়তা হিসেবে পেয়েছেন।
মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু বলেন, “মুরাদনগরে এবারই প্রথমবারের মতো ক্যাপসিকাম আবাদ করা হয়েছে। বাজারে এর ভালো চাহিদা ও মূল্য থাকায় আগামী মৌসুমে এই ফসলের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই উচ্চমূল্যের ফসল চাষের মাধ্যমে মুরাদনগরের কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
এগ্রিকেয়ার/আরিফ
























