
এগ্রিকেয়ার ডেস্ক: গবাদি পশুর সুস্থতা এবং খামারের দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করতে বাছুরের জন্মের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাছুরকে কেবল শালদুধ খাওয়ালেই হবে না, বরং সঠিক পরিমাণ, সঠিক সময় এবং উন্নত মান নিশ্চিত করার মাধ্যমেই বাছুরের শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি সম্ভব।
১. সময়ের গুরুত্ব (Timing):
জন্মের পর প্রথম ২ ঘণ্টার মধ্যে বাছুরকে শালদুধ খাওয়ানো সবচেয়ে কার্যকর। বাছুরের অন্ত্রের দেয়াল জন্মের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা ছিদ্রযুক্ত থাকে, যা শালদুধের বড় বড় অ্যান্টিবডি অণুগুলোকে সরাসরি রক্তে শোষিত হতে সাহায্য করে। জন্মের ৬ ঘণ্টা পর থেকে এই শোষণ ক্ষমতা দ্রুত কমতে থাকে এবং ২৪ ঘণ্টা পর তা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
২. পরিমাপ ও মান (Quantity & Quality):
বাছুরকে তার শরীরের ওজনের প্রায় ১০ শতাংশ পরিমাণ (সাধারণত ৩-৪ লিটার) উচ্চমানের শালদুধ খাওয়ানো উচিত। দুধের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য ‘ব্রিক্স রিফ্র্যাক্টোমিটার’ (Brix Refractometer) ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রিফ্র্যাক্টোমিটারে মান ২৫ শতাংশের বেশি হলে তাকে উন্নত মানের শালদুধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা (Hygiene):
শালদুধ সংগ্রহের পাত্র এবং বাছুরকে খাওয়ানোর সরঞ্জাম অবশ্যই জীবাণুমুক্ত হতে হবে। দুধে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি অ্যান্টিবডি শোষণে বাধা দেয়, যা বাছুরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
৪. সঠিক তাপমাত্রা:
শালদুধ বাছুরের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার কাছাকাছি (প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অবস্থায় খাওয়ানো উচিত। খুব বেশি গরম বা খুব ঠান্ডা দুধ বাছুরের হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
৫. বিকল্প পদ্ধতি:
অনেক সময় বাছুর সরাসরি গাভীর ওলান থেকে পর্যাপ্ত দুধ টেনে খেতে পারে না। সেক্ষেত্রে ফিডার বা স্টোমাক টিউবের (Stomach Tube) মাধ্যমে দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব বাছুর পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি পায় না, তাদের ভবিষ্যৎ প্রজনন ক্ষমতা এবং দুধ উৎপাদনের হার কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই খামারের টেকসই উন্নয়নের জন্য বাছুরের জন্মের প্রথম কয়েক ঘণ্টার সঠিক যত্ন ও শালদুধ ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।
























