লাইফস্টাইল ডেস্ক: সাধারণ টমেটোর স্বাদ আর ভিন্নধর্মী ঘ্রাণ—এই দুয়ের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ হলো ‘ট্রি টমেটো’ বা ট্যামারিলো। দক্ষিণ আমেরিকার এই ফলটি এখন বিশ্বজুড়ে বাগানপ্রেমী ও কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সহজ চাষাবাদ পদ্ধতি এবং প্রচুর ফলন হওয়ার কারণে এটি এখন বাড়ির ছাদ বা আঙিনায় চাষের জন্য একটি আদর্শ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্রি টমেটোর বৈশিষ্ট্য:
এটি সাধারণ টমেটোর মতো লতানো গাছ নয়, বরং এটি একটি ছোট বহুবর্ষজীবী গাছ বা ঝোপালো উদ্ভিদ। এর ফলগুলো ডিম্বাকৃতির এবং পাকলে লাল, কমলা বা হলদে রঙের হয়। এর ভেতরটা শাঁসালো এবং স্বাদে কিছুটা টক-মিষ্টি।

চাষাবাদের সঠিক পদ্ধতি:

১. স্থান নির্বাচন ও মাটি: ট্রি টমেটো রোদ পছন্দ করে, তবে কড়া রোদে গাছের ক্ষতি হতে পারে। তাই এমন জায়গা বেছে নিতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত আলো আসে কিন্তু তীব্র বাতাস থেকে সুরক্ষা থাকে। মাটির ক্ষেত্রে সুনিষ্কাশিত এবং উর্বর দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী।

২. টব বা ড্রামে চাষ: যারা শহরে বসবাস করেন, তারা অনায়াসেই বড় সাইজের টব বা ড্রামে এটি চাষ করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন পানি জমে না থাকে, কারণ অতিরিক্ত পানি এই গাছের শিকড় পচিয়ে দিতে পারে।

৩. চারা রোপণ ও বংশবিস্তার: বীজ থেকে বা কাটিং (কলম) থেকে সহজেই চারা তৈরি করা যায়। বীজ থেকে করা গাছ লম্বা হয়, আর কাটিং থেকে করা গাছ কিছুটা ঝোপালো হয় এবং দ্রুত ফল দেয়।

৪. সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা: গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি দিতে হবে যাতে মাটি আর্দ্র থাকে। বছরে অন্তত দুইবার সুষম জৈব সার বা কম্পোস্ট ব্যবহার করলে ফলন অনেক ভালো হয়।

৫. ছাঁটাই: গাছের সঠিক আকার বজায় রাখতে এবং বেশি ফলন পেতে নিয়মিত ডালপালা ছাঁটাই করা প্রয়োজন। সাধারণত বসন্তের শুরুতে ছাঁটাই করা সবচেয়ে ভালো।

পুষ্টিগুণ ও ব্যবহার:
ট্রি টমেটো ভিটামিন এ, সি, ই এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি সালাদ, সস, চাটনি এবং জ্যাম তৈরিতেও ব্যবহার করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই ফল অত্যন্ত কার্যকর। অল্প পরিশ্রমে যারা বিষমুক্ত ফল পেতে চান, তাদের জন্য ট্রি টমেটো চাষ একটি চমৎকার সমাধান হতে পারে।