
এগ্রিকেয়ার২৪.কম ডেস্ক:
মৎস্য ডেস্ক: তেলাপিয়া মাছ চাষে লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করতে সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মাছের বয়স ও ওজন অনুযায়ী সুষম খাদ্য প্রয়োগ, নির্ধারিত সময়ে খাবার সরবরাহ এবং পানির গুণগত মান বজায় রাখলে তেলাপিয়ার দ্রুত বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও আন্তর্জাতিক নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃষিভিত্তিক তথ্যভান্ডার ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, তেলাপিয়া মাছ সর্বভুক প্রকৃতির হওয়ায় প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ফিডও সহজে গ্রহণ করে। পুকুরে শৈবাল, প্ল্যাংকটন ও উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকলেও অধিক উৎপাদনের জন্য অতিরিক্ত সুষম খাদ্য সরবরাহ প্রয়োজন হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলাপিয়ার পোনা বা ফ্রাই অবস্থায় উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োজন। জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ প্রোটিনযুক্ত খাদ্য দিলে মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। এ সময় দিনে ৮ থেকে ১২ বার পর্যন্ত অল্প অল্প করে খাবার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পোনা বড় হয়ে ফিঙ্গারলিং ও গ্রোয়ার পর্যায়ে পৌঁছালে খাদ্যে প্রোটিনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে আনা যায়। একইসঙ্গে খাবারের পরিমাণও মাছের ওজন অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হয়। সাধারণভাবে ছোট মাছকে শরীরের ওজনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত খাদ্য দেওয়া হলেও বড় মাছের ক্ষেত্রে তা ২ থেকে ৫ শতাংশে সীমিত রাখা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত খাদ্য প্রয়োগ করলে মাছের বৃদ্ধি তেমন বাড়ে না, বরং পানিতে অ্যামোনিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে পানির গুণগত মান নষ্ট হতে পারে। এতে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই মাছের খাদ্য গ্রহণের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে খাদ্যের পরিমাণ সমন্বয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
খাদ্যের ধরন নির্বাচনেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভাসমান (Floating) ও ডুবন্ত (Sinking) — দুই ধরনের পেলেট ফিড বাজারে পাওয়া যায়। ভাসমান খাদ্য ব্যবহার করলে মাছের খাদ্য গ্রহণ সহজে পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং অপচয় কম হয় বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদনের জন্য সঠিকভাবে সার প্রয়োগের কথাও বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর তথ্যমতে, সঠিকভাবে সার প্রয়োগ করলে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বাড়ে এবং অতিরিক্ত বাণিজ্যিক খাদ্যের প্রয়োজন কমে যায়।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পানির অক্সিজেন, তাপমাত্রা ও পিএইচ নিয়ন্ত্রণেও নজর দিতে হবে। কারণ অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তেলাপিয়া চাষে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং লাভজনকতা বৃদ্ধি পায়।
























