
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর সবগুলো কাঁচাবাজারের সবজি আসে পবা উপজেলার খড়খড়ি বাজার থেকে। খড়খড়ি থেকে প্রতিদিন সকালে বিক্রেতারা সবজি কিনে নিয়ে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন বাজারে খুচরা বিক্রি করেন। কৃষকের কাছে থেকে পাইকাররা সবজি কিনে বিক্রি করেন খুচরা দোকানির কাছে। মাত্র এই এক হাত ঘুরেই সবজির কেজিতে বাড়ে ২০-২৫ টাকা
রাজশাহীর ৯টি উপজেলার মধ্যে পবা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সবজি উত্পাদন হয়। এই বাজার থেকে রাজশাহী শহরের দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার। বাজারের সবজি ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে যায়। আর সেই সবজি রাজশাহী শহরে মাত্র এক হাত ঘুরেই কেজিতে দাম বাড়ছে ১০-২৫ টাকা। কৃষকরা কৃষিতে লাভ করুক আর ক্ষতি করুক ব্যবসায়ীরা ঠিকই পকেটে লাভের টাকা ভরছেন।
সম্প্রতি পবার খড়খড়ি বাজার ঘুরে কৃষক এবং পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি মণ পটোল খড়খড়ি বাজারে পাইকারি বিক্রি হয়েছে সকালে দুই হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় (প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা)। একই পটোল রাজশাহী শহরের মাস্টারপাড়ার সবজি বাজারে একই দিন বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় (প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা)। এতে করে কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।
একমণ করলা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে। সেই হিসেবে এক কেজি করলার দাম পড়ে ৭৫-৮০ টাকা করে। কিন্তু একই করলা রাজশাহী শহরে বিক্রি হয়েছে ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে। আবার বরবটি বিক্রি হয়েছে প্রতিমণ ১ হাজার ৮০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা দামে। সেই হিসেবে প্রতি কেজি বরবটি কৃষক দাম পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৬২ টাকা। কিন্তু একই বরবটি শহরে বিক্রি হয়েছে ৮০-৯০ টাকা দরে।
এদিকে, রাজশাহী শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পবার বিদিরপুর বাজারেও সবজির পাইকারি দামে খড়খড়ির চেয়ে ১৫০ টাকা কম দামে প্রতিমণ সবজি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু একই সবজি কিনে রাজশাহীর বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন কেজিতে ১০-২৫ টাকা বেশি দামে।
বিদিরপুর হাটে আসা কৃষক আজিবুর রহমান বলেন, আমরা ফসল উত্পাদন করি। দাম পাই আর না পাই, হাটে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতেই হবে। তবে এখন একটু দাম পাচ্ছি। পটোল বিক্রি করে কিছুটা লাভ হচ্ছে। আরেক কৃষক নাজমুল হোসেন বলেন, এবার শেষের দিকে এসে ভারী বৃষ্টির কারণে অনেক সবজি ডুবে গেছে। এ কারণে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দাম বেশি পেলেও কৃষকরা খুব একটা লাভবান হচ্ছে না।
রাজশাহীর তেরোখাদিয়া বাজারের সবজি বিক্রেতা আসগর আলী জানান, প্রতিদিন প্রায় ২০ কেজি সবজি বিক্রি করি। কখনো কখনো সারা দিনে সেই সবজি বিক্রি হয় না। বেচে যাওয়া সবজি পরের দিন বিক্রি করতে গেলে দাম কম পাওয়া যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। সঙ্গে রয়েছে গাড়ি ভাড়া, দোকানের খাজনা। তাই প্রতি কেজি সবজি বিক্রি করে অন্তত ১০ টাকা লাভ না থাকলে সংসার চলবে না। ২০০ কেজি সবজি বিক্রি করে গড়ে ১০ টাকা করে লাভ থাকলে দিন শেষে হাজার-বারোশ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারি।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ/২০২৩
























