এগ্রিকেয়ার২৪.কম ডেস্ক: বাগান বা সবজি চাষে মাটির উর্বরতা ও গাছের সুস্থ বৃদ্ধির জন্য কম্পোস্ট এবং টপসয়েল— দুই ধরনের উপাদানই বহুল ব্যবহৃত। তবে অনেক কৃষক ও শখের বাগানপ্রেমীদের মধ্যে প্রশ্ন থাকে, কোনটি বেশি কার্যকর এবং কোন পরিস্থিতিতে কোনটি ব্যবহার করা উচিত। সম্প্রতি কৃষিভিত্তিক ওয়েবসাইট Agri Farming-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কম্পোস্ট মূলত জৈব পদার্থ যেমন রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট, শুকনো পাতা, ঘাস ও উদ্ভিজ্জ বর্জ্য পচনের মাধ্যমে তৈরি হয়। এটি মাটির উর্বরতা বাড়ায়, উপকারী অণুজীব বৃদ্ধি করে এবং গাছের জন্য ধীরে ধীরে পুষ্টি সরবরাহ করে। অন্যদিকে টপসয়েল হলো মাটির উপরের স্তর, যা মূলত বালি, কাদা ও পলির মিশ্রণে গঠিত। এটি গাছের শিকড় বিস্তারের জন্য কাঠামোগত ভিত্তি তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কম্পোস্ট গাছকে পুষ্টি জোগায় এবং মাটির জৈবগুণ বৃদ্ধি করে, আর টপসয়েল মাটির গভীরতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু একটিকে নয়, বরং দুটির সমন্বিত ব্যবহারই সবচেয়ে ভালো ফল দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান জমির উর্বরতা বাড়াতে কম্পোস্ট বেশি কার্যকর। বিশেষ করে বেলে বা কাদামাটির গঠন উন্নত করতে এটি সহায়ক। অন্যদিকে নতুন বাগান তৈরি, উঁচু বেড প্রস্তুত বা জমি সমতল করতে টপসয়েল বেশি প্রয়োজন হয়।

উঁচু বেড বা রেইজড বেডে সবজি চাষের জন্য আদর্শ মিশ্রণ হিসেবে ৬০ শতাংশ টপসয়েল, ৩০ শতাংশ কম্পোস্ট এবং ১০ শতাংশ পার্লাইট বা মোটা বালির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশন ভালো হয় এবং গাছের শিকড় সহজে বিস্তার লাভ করতে পারে।

এছাড়া প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত কম্পোস্ট ব্যবহারও ক্ষতিকর হতে পারে। এতে মাটিতে ফসফরাসের মাত্রা বেড়ে গিয়ে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান গ্রহণে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই বছরে সাধারণত ২ থেকে ৫ সেন্টিমিটার পুরু কম্পোস্ট প্রয়োগই যথেষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভালো মানের কম্পোস্ট ও টপসয়েল নির্বাচনেও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভালো কম্পোস্ট দেখতে গাঢ় রঙের, ঝুরঝুরে এবং বনভূমির মাটির মতো গন্ধযুক্ত হয়। অপরদিকে নিম্নমানের টপসয়েলে আগাছার শিকড়, পাথর বা নির্মাণসামগ্রীর অংশ থাকতে পারে, যা চাষাবাদের জন্য ক্ষতিকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নে নিয়মিত কম্পোস্ট প্রয়োগ অত্যন্ত কার্যকর। এতে মাটির জৈবকার্বনের পরিমাণ বাড়ে, পানি ধারণক্ষমতা উন্নত হয় এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমে আসে।