নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: কারেন্ট পোকা জমিতে থাকা আমন ধানের ব্যপক ক্ষতি করছে। ফসল ঘরে তোলার আগেই শেষ সময়ে বিশেষ করে স্বর্ণা -৫, শম্পা কাটারি, ব্রি- ৩৪ ধানে দেখা দিয়েছে এই কীট ।

ঝাকে ঝাকে পোকা নষ্ট করছে ক্ষেতের ধান। থোড় থেকে ধান বেরোতে পারছে না। লাল হয়ে মরে যাচ্ছে ধানের ক্ষেত। এমন অবস্থা বগুড়ার আদমদীঘি ও ধানের জেলা দিনাজপুরে। অগ্রাহয়নের নবান্নের উৎসব অম্লান করে দিচ্ছে কারেন্ট পোকা।

দিনাজপুরের বিরামপুর আমন মৌসুমে আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কৃষকের ঘরে উঠতো আমন ধান। অগ্রাহয়নের নবান্নের উৎসব অম্লান করে দিচ্ছে কারেন্ট পোকা। বিভিন্ন জাতের ধান বিশেষ করে গুটি স্বর্ণা,স্বর্ণা ৫,কাটারি- ৩৪, বিভিন্ন জাতের মোটা ধান উপজেলায় ব্যাপক ভাবে আবাদ করেছে কৃষককুল। আমন ধানের আবাদ প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। গ্রামের কৃষককুল ধারদেনা করে সারা বৎসরের সঞ্চয়ী অর্থ আমন ধানে বিনিয়োগ করে পাচ্ছনা কাঙ্খিত ফল।

বিঘা প্রতি ধান রোপণ থেকে শুরু করে ধানের শীষ বের হওয়া পর্যন্ত প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধানে রোগবালাই না হলে বাম্পার ফলন কৃষক প্রতি বিঘায় ১৫-২০ ধান ঘরে তুলতে পারত। আগাম জাতের ধানের জমিতে পোকামাকড় জন্য বালাইনাশক ঔষধ নিয়মিত প্রয়োগ করেও ধানের জমি থেকে পোকা দমন করতে পারছেন না কৃষক। ধানের গোড়ায় ছোট বাদামী রঙের ফড়িং (কারেন্ট পোকা) দিনরাতের সাবাড় করছে কৃষকের ফসলের কৃষক।

বগুড়ার আদমদীঘি চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামের পশ্চিম মাঠে চাষিরা জানান, হঠাৎ করে জমিতে ক্যারেন্ট পোকা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসের ব্লকসুপার ভাইজার মাঠ পরিদর্শনে করে বলেন সমান্য আকারে পোকা দেখা দিয়েছে ঔষধ প্রয়োগে পোকা দমন হবে। পরে জমির ধান দেখে প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিঠু চন্দ্র অধিকারীর সাথে কথা বলেন, আবহাওয়ার কারণে একটু দেখা যায়। তবে গত দুদিনের বৃষ্টির ফলে কৃষকদের আর ক্ষতির সম্ভবনা নেই। এরপরও যেসব এলাকায় পোকা দেখা দিয়েছে সেসব এলাকায় কৃষি অফিস থেকে অফিসার পাঠিয়ে পোকা দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ