নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: চলতি মৌসুমে মাঠ পর্যায়ে কম খরচে পোকা ও ভাইরাসমুক্ত নিরাপদ রঙিন ক্যাপসিকাম চাষের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) মাঠ গবেষণা কেন্দ্র। মালচিং কিংবা জৈব প্রযুক্তি উপায়ে চাষ করে সফলতা পাওয়া গেছে।

গবেষণার জন্য বেগুনি, হলুদ ও সবুজ- তিন ধরনের ক্যাপসিকাম চাষ করা হয়েছে। গবেষণার প্রধান তত্ত্বাবধায়ক খুবির এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রশান্ত কুমার দাশ। একই ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের ছাত্রী সাদিয়া আলম গবেষণা সহায়ক হিসেবে কাজ করছেন।

প্রতিটি গাছে ৪ থেকে ১০টি পর্যন্ত ক্যাপসিকাম রয়েছে। আকর্ষণীয় বেগুনি রঙের ক্যাপসিকাম দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে এবারই প্রথম খুবির এই গবেষণা মাঠে চাষ করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহযোগিতায় এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্যাপসিকাম সংগ্রহ করা হবে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তারা জানায়, গবেষণার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে থ্রিপসবাহিত ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করে ক্যাপসিকাম উৎপাদন।

ড. প্রশান্ত কুমার দাশ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্পের মাঠে তিন রঙের ক্যাপসিকাম গাছের বৃদ্ধি ও ফলনের তুলনামূলক গবেষণা চালানো হয়। বেগুনি রঙের ক্যাপসিকাম এই তিন রঙের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলন দেয়। যার বাজারমূল্য অন্যান্য ক্যাপসিকামের চেয়ে অনেক বেশি (প্রতি কেজির দাম ২৫০-৩০০ টাকা)। বাজারে সবুজ, লাল ও হলুদ ক্যাপসিকামের দেখা মিললেও বেগুনি রঙের ক্যাপসিকাম তেমন চোখে পড়ে না। এ জন্য আকর্ষণীয় রঙিন সবজি হিসেবে বাজারে এর প্রচুর চাহিদা। ক্যাপসিকাম সাধারণত সালাদ, মিক্সড সবজি ও চায়নিজ রান্নায় ব্যবহূত হয়।

তিনি জানান, এই মাঠে একটি গাছে সর্বোচ্চ ২০-২৫টি ক্যাপসিকাম হয় এবং একেকটির ওজন ৮০ থেকে ১৪০ গ্রাম। মাঠ পর্যায়ে ক্যাপসিকাম চাষের প্রধান অন্তরায় থ্রিপস পোকার আক্রমণ। এই থ্রিপস মরিচ গোত্রের সবজির জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। মাঠ পর্যায়ে জৈব উপায়ে কার্যকরী থ্রিপস দমনের পদ্ধতি নির্বাচন ছিল এ গবেষণার মূল লক্ষ্য। এ গবেষণায় থ্রিপস পোকা দমনে ক্যায়োলিন ক্লে ও নিমের তেল জৈব বালাইনাশক হিসেবে ১০ দিন পরপর ছিটানো হয়। ক্যায়োলিন ক্লে একটি অর্গানিক ক্লে পার্টিকেল, যা অ্যালুমিনিয়াম ও সিলিকন সমৃদ্ধ। এ দ্রব্যের বাণিজ্যিক নাম সারাউন্ড।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ