
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: একটি গাছ, কিন্তু তাতে ফল ধরছে একসঙ্গে কয়েক ডজন প্রজাতির। দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি কোনো ছবি। তবে বাস্তবে এমন গাছের অস্তিত্ব রয়েছে। গ্রাফটিং বা কলম পদ্ধতি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের এক অধ্যাপক তৈরি করেছেন এমন গাছ, যেখানে ফলে পিচ, প্লাম, চেরি, অ্যাপ্রিকটসহ প্রায় ৪০ ধরনের ফল।
একই গাছে একাধিক ধরনের ফল হওয়ার ছবি দেখলে প্রথমে মনে হতেই পারে, ছবিটি হয়তো এআই দিয়ে তৈরি বা ফটোশপে সম্পাদনা করা হয়েছে। শুনতে অবাক লাগলেও ৪০ ধরনের ফল ধরা গাছের অস্তিত্ব পৃথিবীতে সত্যিই রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিরাকিউস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্যাম ভ্যান একেন গ্রাফটিং বা কলম পদ্ধতির মাধ্যমে এমন গাছ তৈরি করেছেন, যেখানে ৪০ ধরনের ফল ধরে। বসন্তকালে সেই গাছে ডজনখানেক রঙের ফুল ফোটে। কয়েক মাস পর দেখা যায়, গাছটির বিভিন্ন ডালে ঝুলছে পিচ, প্লাম, চেরি ও অ্যাপ্রিকটের মতো হরেক রকম ফল।

স্যাম ভ্যান একেন মূলত একজন ভাস্কর। তবে পাথর বা ব্রোঞ্জের মতো নির্জীব উপাদানের বদলে তিনি কাজ করতে পছন্দ করেন জীবন্ত উদ্ভিদ নিয়ে। তাঁর কাছে একটি গাছ কেবল প্রকৃতির অংশ নয়, বরং সময়ের সঙ্গে বিবর্তিত হওয়া একটি জীবন্ত শিল্পকর্ম। জটিল পরিবেশগত সমস্যাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে উপস্থাপন করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তাঁর এই ৪০ ফলের গাছ শুধু একটি উদ্ভিদ নয়, খাদ্য, শিল্প ও পরিবেশ সংরক্ষণের এক অনন্য সংমিশ্রণ হিসেবেও তিনি এটি তুলে ধরছেন।
একই গাছে ৪০ ধরনের ফল ধরার বিষয়টি সম্ভব হয়েছে গ্রাফটিং বা কলম পদ্ধতির মাধ্যমে। এই কৌশল হাজার হাজার বছর ধরে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভ্যান একেন ‘চিপ গ্রাফটিং’ নামের একটি সূক্ষ্ম পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এতে একটি ফলন্ত গাছের ডাল থেকে একটি কুঁড়ি নিয়ে অন্য একটি ধারক গাছের ডালে স্থাপন করা হয়। সময়ের সঙ্গে ডাল দুটির টিস্যু একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। তখন নতুন ডালটি মূল গাছের অংশ হিসেবে বেড়ে ওঠে এবং ফল দেয়।
তবে এই বৈচিত্র্যের একটি সীমা রয়েছে। এই গাছের সব ফলই প্রুনাস গণের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে পিচ, প্লাম, চেরি, অ্যাপ্রিকট ও আলমন্ড। যেহেতু এই সব প্রজাতি জিনগতভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই তাদের সংবহনতন্ত্র পরস্পরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। এ কারণেই একই গাছে আপেল ও কমলার মতো ভিন্ন গণের ফল একসঙ্গে ফলানো সম্ভব নয়।
এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালে। তবে একটি ৪০ ফলের গাছ এক দিনে তৈরি হয়নি। প্রতিটি গাছ পূর্ণতা পেতে প্রায় পাঁচ থেকে সাত বছর সময় লাগে। দীর্ঘ সময় ধরে সঠিক ডাল নির্বাচন, গ্রাফটিং এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর ২০১৩-১৪ সালের দিকে প্রথম গাছটি পূর্ণতা পায় এবং ৪০ রকমের ফল দিতে শুরু করে।
২০০৮ সালে নিউইয়র্কের একটি কৃষি গবেষণা বাগান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে সেটি কিনে নেন ভ্যান একেন। সেখানে অনেক দুর্লভ প্রজাতির ফলের গাছ ছিল, যা বাণিজ্যিক কৃষিতে গুরুত্ব না পাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। সেই বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিগুলো সংরক্ষণের লক্ষ্যেই তিনি সেগুলো একটিমাত্র গাছে একত্র করার উদ্যোগ নেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
























