
ফসল ডেস্ক এগ্রিকেয়ার২৪.কম: তীব্র শৈত্য প্রবাহে ধানের বীজতলার যত্নে করণীয় বিষয়ে কৃষক ভাইদের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেম ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
তীব্র শত্যৈ প্রবাহরে কারণে বোরো ধানের চারা প্রথমে ক্রমশ হলুদাভ হয়ে মারা যায়। এছাড়াও শীতের প্রকোপে পাতা/ পোড়া ঝলসানো রোগের কারণে মারা যেতে পারে। বৃহৎ রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে শীতের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় বেশি। সবসময়ই শৈত্য প্রবাহ শুরু হলে কৃষক ভাইদের বীজতলা রক্ষায় বাড়তি কিছু যত্ন নিতে হয়।
তীব্র শৈত্য প্রবাহে ধানের বীজতলা রর্ক্ষাথে কৃষক ভাইদের যা যা করতে হবে:
১. শৈত্য প্রবাহ শুরু হলে বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে দিতে হবে।
২. বীজতলায় তিন থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করা ভালো।
৩. বীজতলায় পানি সকালে বের করে দিয়ে আবার নতুন পানি দিতে হবে।
৪. প্রতিদিন সকালে জমাকৃত শিশির ঝরিয়ে দিতে হবে।
৫. চারা পোড়া রোগ দমনের জন্য রোগের প্রাথমিক অবস্থায় প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলিমিটার অজোঅক্সিটোবিন বা পাইরোক্লাস্টবিন জাতীয় ছত্রাকনাশক মিশিয়ে বীজতলায় দুপুরের পর স্প্রে করতে হবে।
৬. বীজতলায় চারা হলুদ হয়ে গেলে প্রতি শতক জমিতে ২৮০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া প্রয়োগের পর চারা সবুজ না হলে প্রতি শতক জমিতে ৪০০ গ্রাম হারে জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে।
৭.রোপনের জন্য কমপক্ষে ৩৫ থেকে ৪০ দিনের চারা ব্যবহার করা ভালো। এ বয়সে তারা রোপনে চারার মৃত্যুহার কমে চারা সতেজ থাকে এবং ফলন বেশি হয়।
৮. চারা রোপণ কালে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে কয়েক দিন দেরি করে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে চারা রোপণ করতে হবে।
এরপর শৈত্যপ্রবাহ হলে জমিতে পাঁচ থেকে সাত সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে। শীতের তীব্রতা ও চারার বয়স বিবেচনায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা অনুশীলন করলে সুস্থ ও রোগমুক্ত চারা উৎপাদনের মাধ্যমে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























