
ফসল ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ‘দীঘা’ ধানসহ বিলুপ্ত ১০০ প্রজাতির ধান নিয়ে আসছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট(ব্রি)। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের বিলুপ্ত ১০০ প্রজাতির স্থানীয় জাতের ধান মাঠে ফেরাতে সংরক্ষণ ও গবেষণা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ধানের জাত নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সরাসরি কৃষকের মাঠ থেকে সংগ্রহ করেছে। কৃষি সম্প্রসারণের সহযোগিতায় এসব ধান সংগ্রহ করে ব্রি’র গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ে এনেছে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া গ্রামের কৃষক মো. দবির উদ্দিন শেখ বলেন, বোরো ধান কাটার পর আমরা জমিতে দীঘাধান ছিটিয়ে দেই। কোনো পরিচর্যা ছাড়াই বিঘাপ্রতি ৮/১০ মণ ধান পাই। ব্রি, গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় আমাদের কাছ থেকে দীঘা ধানের অন্তত ১৫টি জাত সংগ্রহ করে গবেষণা করছে। এ ধানের উচ্চফলনশীল জাত পেলে আমাদের ধানের উৎপাদন বহু গুণে বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে এ ধান আবাদ করে লাভবান হতে পারব।
এ কার্যালয়ে জাতগুলোর বীজ বর্ধন ও বৈশিষ্ট্যায়নের কাজ চলছে। এখান থেকে এগুলো পিওর লাইন সিলেকশনের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় বিশুদ্ধ জাত শনাক্তকরণ করা হচ্ছে। গবেষণার মাধ্যমে জাতগুলো উচ্চফলনশীল জাতে রূপান্তরিত করে ভবিষ্যতে অবমুক্ত করা হবে।
এছাড়া কৃষকের মাঠে জনপ্রিয় বিলুপ্ত প্রজাতির স্থানীয় ধানের জাতের মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে। কৃষক এখান থেকে তার পছন্দের স্থানীয় জাত বেছে নিয়ে চাষাবাদ করে অধিক ধান উৎপাদন করবেন| এভাবেই স্থানীয় বিলুপ্ত জাতের ধানের চাষাবাদ ফিরে আসবে।
ব্রি, গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও সিনিয়র সাইন্টিফিক ড. মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে আগে সাড়ে ১২ হাজার প্রজাতির স্থানীয় ও দেশীয় ধান আবাদ হতো। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থানীয় ও দেশীয় ৮ হাজার ধানের জাত সংগ্রহ করে জিন ব্যাংক গড়ে তুলেছে।
তিনি আরোও বলেন, কৃষকের মাঠে বিদ্যমান একটি জাতকে বিলুপ্তি থেকে রক্ষা করা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি বড় কাজ। এ লক্ষ্যে আমরা স্থানীয় ও দেশি ধানের জাত সংগ্রহ করে মূল্যায়ন ও বৈশিষ্ট্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এটি ধান গবেষণার জিন ব্যাংক সমৃদ্ধকরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া স্থানীয় ও দেশি জাতের ধানের উন্নয়ন ঘটিয়ে নতুন করে বিলুপ্ত জাত কৃষকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এতে কৃষক স্থানীয় ও দেশি উচ্চফলনশীল ধানের আবাদ করে আমন মৌসুমে অধিক ধান ঘরে তুলবেন। এতে কৃষকের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।
ব্রি, গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সায়িন্টিফিক অফিসার ফারুক হোসেন খান বলেন, স্থানীয় জাতের ধানের মধ্যে অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। এই পুষ্টিগুণের বৈশিষ্ট্যগুলো উচ্চফলনশীল জাতের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে স্থানীয় জাতকে উচ্চফলনশীল জাতে পরিণত করা হবে। এতে বিলুপ্ত জাতের বৈশিষ্ট্য ফিরে আসবে। ভাতের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























