
কৃষিবিদ মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: আমাদের দেশে সব অঞ্চলে একইসাথে একই ফসল রোপন করা হয় না। যেমন হাওর অঞ্চলে বোরো ধান আগে রোপন ও সংগ্রহ কার্যক্রম শেষ হয়। কিন্তু পশ্চিমাঞ্চলে পরে রোপন করা হয়; ফলে বিভিন্ন রোগের আক্রমন দেখা দেয়। তাই দেরিতে রোপণ করা বোরো ধানের পরিচর্যা চাষিদের জানা প্রয়োজন।
প্রথমেই দেরিতে রোপণ করা বোরো ধানের জমিতে চারার বয়স ৫০-৫৫ দিন হলে ইউরিয়া সারের শেষ কিস্তি উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। যারা গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে চান প্রয়োগ করতে পারেন।
এছাড়া নাবি বোরো ধানের থোড় আসার সময় যাতে খরার জন্য পানির অভাব না হয় তাই আগে থেকেই সম্পূরক সেচের জন্য মাঠের এক কোনে মিনিপুকুর তৈরি করতে হবে।থোড় আসা শুরু হলে জমিতে পানির পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়াতে হবে।ধানের দানা শক্ত হলে জমি থেকে পানি বের করে দিতে হবে।
পড়তে পারেন: ধানের ৩ ধরণের ব্লাস্ট রোগের সমাধান
এ মাসে বোরো ধানে মাজরা পোকা, বাদামি গাছ ফড়িং, সবুজ পাতা ফড়িং, গান্ধিপোকা, লেদাপোকা, ছাতরাপোকা, পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ হতে পারে। পোকা দমনের জন্য নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শন করতে হবে এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পোকার আক্রমণ রোধ করতে হবে।
আলোর ফাঁদ পেতে, পোকা ধরার জাল ব্যবহার করে, ক্ষতিকর পোকার ডিমের গাদা নষ্ট করে, উপকারী পোকা সংরক্ষণ করে, ক্ষেতে ডাল-পালা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করার মাধ্যমে ধানক্ষেত বালাই মুক্ত করা দরকার; এসব উপায়ে পোকার আক্রমণ প্রতিহত করা না গেলে সঠিকভাবে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে;
এ সময় ধান ক্ষেতে উফরা, বাদামি দাগ রোগ, ব্লাস্ট, পাতা পোড়া ও টুংরো রোগসহ অন্যান্য রোগ হতে পারে। সঠিক বালাইনাশক ব্যবহার করে রোগ দমন করতে হবে।
পড়তে পারেন: ধানের ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট রোগ দমনে করণীয়
এ মাসে শিলাবৃষ্টি হতে পারে, বোরো ধানের ৮০% পাকলে তাড়াতাড়ি কেটে ফেলতে হবে। বন্যাপ্রবণ নিচু এলাকায় আগাম জাতের আউশ ধান (ব্রি ধান২৬, ব্রি ধান২৭, ব্রি ধান৪২, ব্রি ধান৪৩, ব্রি ধান৪৮ এসব) চাষ করতে পারেন।
আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকায় আগাম জাত ও স্বল্পমেয়াদি বিনাধান-৭, ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান৩৯ এসব চাষ করতে পারেন।
জমিতে উফরা রোগ দেখা দিলে যে কোনো কৃমিনাশক যেমন ফুরাডান ৫জি বা কিউরেটার বা ব্রিফার ৫জি প্রয়োগ করতে হবে। ব্লাস্ট রোগ দেখা দিলে ইউরিয়া সারের উপরিপ্রয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে হেক্টরপ্রতি ৪০০ গ্রাম ট্রুপার বা জিল বা নাটিভো বা ব্লাস্টিন ১০ থেকে ১৫ দিনের ব্যবধানে দুইবার প্রয়োগ করতে হবে।
জমিতে পাতাপোড়া রোগ হলে অতিরিক্ত ৫ কেজি-বিঘা হারে পটাশ সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে এবং জমির পানি শুকিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর আবার সেচ দিতে হবে। আর টুংরো রোগ দমনের জন্য এর বাহক পোকা সবুজ পাতা ফড়িং দমন করতে হবে।
দেরিতে রোপণ করা বোরো ধানের যেসব পরিচর্যা বিষয়ে লিখেছেন কৃষিবিদ মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন তথ্য অফিসার (কৃষি), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























