ফসল ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বর্তমানে দেশে অনাবাদি (পতিত) জমির পরিমাণ ৪৩ লাখ ৯ হাজার ৩৩১ হেক্টর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ‘রিপোর্ট অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল স্ট্যাটিসটিকস ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশের ‘এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি পড়ে না থাকে না’ নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু বিপুল পরিমান জমি কীভাবে আবাদের আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে মানুষকে উৎসাহিত করা ছাড়া সরকারের তথা কৃষি বা ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট আর কোনও কর্মপরিকল্পনা নেই।

১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী, কোনও জমি তিন বছর পতিত রাখলে সেই জমিকে স্থানীয় প্রশাসন খাস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতা রাখে। তবে সরকার এই মুহূর্তে সেদিকে যেতে চাচ্ছে না। কৃষি মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

বিবিএস’র প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে পতিত জমির মোট পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার শতক বা ৪৩ লাখ ৯৩৩১ হেক্টর (২৪৭ শতকে এক হেক্টর)।

বিবিএস এর প্রতিবেদনের তথ্য মতে, দেশে মোট ব্যবহৃত জমির পরিমাণ ২২৬ কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার শতক। পরিবারপ্রতি জমির পরিমাণ প্রায় ৮২ শতক। এসব জমির মধ্যে বসতবাড়ি, পুকুর, স্থায়ী ফসলি জমি, অস্থায়ী ফসলি জমির পাশাপাশি পতিত জমিও রয়েছে। এর মধ্যে পতিত জমি রয়েছে দুই ধরনের। প্রথমত অস্থায়ী পতিত এবং স্থায়ী পতিত জমি, যার পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার শতক।

অস্থায়ী পতিত জমি বলতে যেসব জমিতে চলতি বছরে আবাদ বা কোনও ধরনের শস্য উৎপাদন হয়নি, কিন্তু তার আগের বছরে জমিটিতে আবাদ হয়েছে। এমন জমির পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৫৩ লাখ ৫৫ হাজার শতক। পরিবারপ্রতি এ ধরনের জমি রয়েছে গড়ে প্রায় এক শতক। অন্যদিকে কখনই কোনও ধরনের আবাদ হয়নি বা শস্য উৎপাদন হয়নি এমন জমিকে বলা হয় স্থায়ী পতিত জমি, দেশে যার পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ৩১ লাখ ৫৯ হাজার শতক। পরিবারপ্রতি এ ধরনের পতিত জমি রয়েছে গড়ে প্রায় তিন শতক।

জানা গেছে, পতিত জমির বেশিরভাগ মালিক এসব জমির কাছাকাছি বসবাস করেন না। তারা চাকরির কারণে হোক, আর ব্যবসার কারণেই হোক, তারা নিজের বসতবাড়ি বা নিজের মালিকানাধীন জমি থেকে দূরে বসবাস করেন। ফলে এসব জমির বেশিরভাগই সারা বছর অনাবাদি রয়ে যায়। কিছু জমি মাঝেমধ্যে চাষাবাদ হলেও তা তেমন উল্লেখযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী গণমাধ্যমকে জানান, ‘জমি চাষবাদের আওতায় আনা না আনার বিষয়টি দেখভাল করে কৃষি মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাজ খুব বেশি নাই। তার পরেও কোনও অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে যদি কোনও কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে ওইসব কাগজপত্র দ্রুত সরবরাহ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। আমরাও আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সবাইকে প্রতি ইঞ্চি জমি চাষাবাদের আওতায় আনার জন্য সব ধরনের উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়ে যাচ্ছি।’

বিবিএসের সর্বশেষ দেওয়া তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে বসতবাড়ি রয়েছে ২১ কোটি ২৯ লাখ ৬৩ হাজার শতক। পরিবারপ্রতি বসতবাড়ি জমির পরিমাণ প্রায় আট শতক। অন্যদিকে দেশে মোট পুকুর রয়েছে পাঁচ কোটি ৫৪ লাখ ৮১ হাজার শতক জমিতে। পরিবারপ্রতি পুকুরের জমির পরিমাণ প্রায় দুই শতক। স্থায়ী ফসল (যেমন ফল, বাগান) বা জীবনকাল এক বছরের বেশি এমন ফসলের আবাদি জমির পরিমাণ ১২ কোটি ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার শতক।

অন্যদিকে অস্থায়ী ফসলি (জীবনকাল এক বছরের নিচে এমন) জমির পরিমাণ ১৭৬ কোটি ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার শতক। মূলত নিয়মিত যেসব কৃষিশস্য বা ফসল আবাদ করা হয় এমন জমিগুলোকেই অস্থায়ী ফসলি জমি বলা হয়। পরিবারপ্রতি এমন জমির পরিমাণ প্রায় ৬৪ শতক।

দেশে চাষযোগ্য ফসলি জমি এখন প্রায় ১৭৮ কোটি ১ লাখ ৩৩ হাজার শতক। ফলে পরিবারপ্রতি ফসলি জমির পরিমাণ প্রায় ৬৫ শতক। এর মধ্যে এক ফসলি জমি এখনও ৫০ কোটি ৪৮ লাখ ৪৬ হাজার শতক। অন্যদিকে দোফসলি জমির পরিমাণ ১০৫ কোটি ৫৬ লাখ ১১ হাজার শতক। এছাড়া তিন ফসলি জমি রয়েছে ২০ কোটি ৬২ লাখ শতক। চার ফসলি জমি রয়েছে এক কোটি ৩৪ লাখ ৭১ হাজার শতক।

দেশে অনাবাদি জমি ৪৩ লাখ হেক্টর হলেও প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে এসব জমি কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০ উপলক্ষে গত ১৬ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক সেমিনারে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এক ইঞ্চি জমিও কেউ ফেলে রাখবেন না। গাছ লাগান, ফল লাগান, তরিতরকারি লাগান। যে যা পারেন কিছু লাগিয়ে উৎপাদন বাড়ান। যখনই করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছে, তখনই আমরা সবথেকে গুরুত্ব দিয়েছি খাদ্য উৎপাদনে। আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। খাদ্যের নিশ্চয়তা রাখতে হবে।’

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ