
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: দেশে আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবে কৃষিমন্ত্রীর হ্যাঁ বলেছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জমি দেয়া হবে আর কারিগড়ি সহযোগিতা দিবে আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্র সংস্থা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই, ২০১৯) কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্রের (সিআইপি) এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ড. ইউ.এস সিং এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধ দলের বৈঠক হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ে কৃষিমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হয়। এসময়ে কৃষিমন্ত্রী তাতে রাজি হওয়ার পাশাপাশি জমি দেয়ার কথা উল্লেখ করেন।
বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশে উৎপাদনের দিক থেকে ধান, গম ও ভুট্টার পরেই চতুর্থ স্থানে আছে আলু। বাংলাদেশে আলু একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল। সর্বত্রই এর চাষ হয়ে থাকে।
অনুকূল আবহাওয়ার ফলে নতুন করে দেশের বেশ কিছু জেলাতে এর চাষ ব্যাপকভাবে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহৃত আলুর জাতের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে হলে সে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আলু উৎপাদন করতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী জানান, আমাদের চাহিদার চেয়ে বেশী উৎপাদিত আলু নিয়ে কাজ করতে হবে। এর প্রক্রিয়াজাত করে নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির পাশাপাশি আলুর বহুবিধ ব্যবহার করতে হবে। এসময় আলুর লেইট ব্লাইট রোগে নিয়েও তিনি কথা বলেন।
ড.ইউ.এস সিং বলেন, ভারতেও আলুর অন্যতম সমস্যা লেইট ব্লাইট রোগ। এর পরেও ভারত বিশ্বের মধ্যে অন্যতম চিপস রপ্তানিকারক দেশ। সিআইপি চাচ্ছে বাংলাদেশে একটি কেন্দ্র স্থাপন করতে।
যেহেতু পুর্ব এশিয়ায় তেমন আলু চাষ হচ্ছে না। এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কৃষিমন্ত্রী জানান বাংলাদেশে কেন্দ্র করার জন্য জমি দিবে, কারীগরি সকল সহায়তা দিবে আইপিসি। আলুর জাত উন্নয়ন ও প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির জন্য আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্রের সহায়তা চেয়েছেন কৃষিমন্ত্রী।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতের জন্য টাকার কোনো সমস্যা নেই। কীভাবে আলুর জাত উন্নয়ন ও তা প্রক্রিয়াজাত করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করা যায় সে ব্যাপারে সহযোগিতা চাই।
তিনি জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির কারণে কিছু জেলায় আলুর প্রায় ৩০টি জাতের চাষ ব্যাপকভাবে হয়। বিগত বছর আলুর উৎপাদন আমাদের চাহিদার চেয়ে প্রায় ৩০ লাখ টন বেশি হয়েছে। এছাড়াও পুষ্টিমান সম্পন্ন মিষ্টি আলুর চাষ হচ্ছে আমাদের দেশে।
এ খাতে বাংলাদেশকে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। প্রতিনধি দলে আরো ছিলেন ড.এম.এ বারী, প্রাক্তন পরিচালক বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও লুৎফুল হাসান, ভিসি বাকৃবি।
চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আক্রান্ত এলাকার কৃষকদের বিনামুল্যে সার ও বীজ দেয়া হবে। এর জন্য ১২০ কোটি টাকা বাজেট ধরা হয়েছে।
এছাড়া আবার বন্যা হলে কি করণীয় তারও প্রস্তুতি নেয়া আছে। বর্তমান চলমান বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার মতো বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।
দেশে আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবে কৃষিমন্ত্রীর হ্যাঁ সংবাদটির তথ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কাজুবাদাম, রাম্বুটান, কচুরিপানার ডাবল বেডে আলু চাষে মিলবে কৃষি ঋণ
























