
নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ : নওগাঁয় ২৫ হাজার খামারে রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩৩ হাজার গবাদিপশু। এসব পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে, এবার গতবারের তুলনায় অতিরিক্ত পশু রয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এসব পশু বিক্রির জন্য স্থায়ী গবাদিপশুর হাট রয়েছে ৩৮টি। সবেচেয়ে পরিচিত হাটগুলোর মধ্যে জেলার নিয়ামতপুরের ছাতড়া, মান্দার চৌবাড়িয়া ও সতিহাট, নওগাঁ সদরের ত্রি-মোহনী, সাপাহারের দিঘিরহাট, পোরশার মশিদপুর, পত্নীতলার মধুইল, ধামইরহাট সদর, রাণীনগরের আবাদপুকুর, আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ, মহাদেবপুরের মাতাজী ও বদলগাছীর কোলা হাটে বেশি গবাদিপশু বিক্রি হয়ে থাকে।
পড়তে পারেন: কোরবানির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ১ কোটি ২১ লাখ পশু
জেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় গতবার কোরবানি হওয়া গবাদিপশুর সংখ্যা অনুযায়ী এবার কোরবানি হতে পারে ২ লাখ ৯৩ হাজার পশু। কোরবানি উপযুক্ত অতিরিক্ত ১ লাখ ৩৯ হাজার গবাদিপশু দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চাহিদা মেটাবে। জেলায় বাণিজ্যিকভাবে গবাদিপশু লালন-পালনকারী খামারের সংখ্যা ২৫ হাজার।
জেলার দ্বিত্বীয় বৃহতম পশুর হাট নিয়ামতপুর উপজেলার ছাতড়া হাটের ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির পশুতে পুরো হাট ঠাসা। বিপুল পরিমাণ পশু যেমন উঠেছিল, তেমনি বিক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
পড়তে পারেন: ভারতীয় গরু-মহিষে সয়লাব রাজশাহীর সিটি হাট
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে পশুর সরবরাহ ছিল চোখে পড়ার মত। বিক্রেতারা পশু নিয়ে অপেক্ষা করছেন। উত্তপ্ত রোদে দরদর ঘামছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই। চলছে দামাদামি; দামে হলেই ছাড়ঘরের দিকে ছুটছেন তারা। আনুমানিক ৩ থেকে সাড়ে ৩ মণ ওজনের ষাঁড় গরু ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
জেলার মান্দা চৌবাড়িয়ার মালশিরা এলাকার মকবুল হোসেন। গরুর দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে বাড়ি বাড়ি গরু কিনে এসে হাটে এই বিক্রি করেন। ঈদের হাট জমজমাট থাকে আর প্রতিটা গরুতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ করেন তিনি। লাল রঙের এক ষাঁড় গরুর আনুমানিক ওজন হবে জানালেন ৩ মণ ১০ সের। দাম হাঁকলেন ৭৮ হাজার।
পড়তে পারেন: কোরবানিতে ভারতের পশু বন্ধ, দেশীয় গরুতেই ঈদ
দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কুরবানির সময় বাইরের বড় বড় ব্যবসায়ীরা হাটে আসেন। পছন্দের গরু দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। ওজনের তুলনায় গরুর দাম সমসময় হয় না। পছন্দের উপর দু-পাঁচ হাজার টাকা বেশি দিয়ে কিনেন ক্রেতারা।
ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, ছাতড়ার হাটে সপ্তাহে ১দিন (সোমবার) পশুর হাট বসে। সারা বছর হাটটিতে গবাদিপশুর বেচাকেনা হলেও কোরবানি উপলক্ষে প্রায় এক মাস আগে থেকে গরু-ছাগলের আমদানি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র ১০ দিন। অথচ এখনও হাটে আশানুরূপ ক্রেতার দেখা নেই। কোরবানির আগে আগামী সোমবার আর একটি পশুর হাট লাগবে এই বাজারে।
ছাতড়া হাটের ইজারাদার বলেন, ছাতড়া হাট নওগাঁর সবচেয়ে বড় পশুরহাট। অন্য বছর ঈদের তিন-চার হাট আগে থেকেই এখানে হাট জমে উঠে। কিন্তু এবার তা জমে উঠেনি। হাটে প্রচুর গরু-ছাগলের আমদানি হয়েছে, অথচ ক্রেতা নেই। কিছু ব্যাপারী কম দামে গরু-ছাগল কিনেছেন। অনেকেই হাট থেকে গরু-ছাগল ফেরত নিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, এবার এখন পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বড় বড় ব্যাপারীদের দেখা মিলেনি। তবে শেষ হাটে বড় বড় ব্যাপারীরা আসলে কোরবানির পশুর দাম বেড়ে যেতে পারে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























