
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: দেশে করোনা মহামারি সংকটে আশার আলো হিসেবে দেখা দিতে পারে কম্বাইন হারভেস্টার যন্ত্র। যা দিয়ে একসাথে জমির ধান একই সাথে কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দি করা যায়। ধান কাটার মৌসুমে স্বাভাবিক সময়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শ্রমিকের সংকট থাকে। হাওরাঞ্চলসহ দেশের প্রায় ২৬টি জেলায় দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। যন্ত্রটির মাধ্যমে সাড়ে তিন হেক্টর জমির ধান একই সাথে কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দি করতে দেড়শ শ্রমিক ও প্রায় ৫০ হাজার টাকা সাশ্রয় করতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের গবেষণায় দেখা গেছে, ইয়ানমার কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে এক হেক্টর জমির ধান কাটতে ১৮ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। কিন্তু এই পরিমাণ ধান কাটতে প্রথাগতভাবে ৬১ জন শ্রমিক লাগবে। একদিনে ইয়ানমার হারভেস্টার প্রায় সাড়ে তিন হেক্টর জমির ধান সর্বোচ্চ ৬৩ জন শ্রমিক দিয়েই কাটানো সম্ভব। কিন্তু সেই পরিমাণ জমির ধান কাটতে প্রথাগতভাবে ন্যূনতম ২১৩ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। পরিস্থিতি অনুসারে আরও বেশি প্রয়োজন হতে পারে। ফলে কম্বাইন হারভেস্টারে ১৫০ জন শ্রমিকের সাশ্রয় করবে। আবার হারভেস্টারের মাধ্যমে এখন কাদা মাটি ও পড়ে ধাকা ধানও কাটা সম্ভব।
শ্রমিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি খরচও সাশ্রয় করা সম্ভব বলে জানান দেশের শীর্ষস্থানীয় কৃষি যন্ত্র বিপণনকারী এসিআই মটরসের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস। তিনি বলেন, হাওড় এলাকা ছাড়াও কৃষকদের মাঝে জাপানি প্রযুক্তির ইয়ানমার কম্বাইন হারভেস্টার সরবরাহ করছি। যন্ত্রটি শ্রমিক ও খরচের সর্বোচ্চ সাশ্রয় করছে বলে কৃষকরা জানিয়েছে। ফলে হারভেস্টারের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমান শ্রমিক সংকটে কারভেস্টার হতে পারে অন্যতম ভরসার জায়গা। ইয়ানমার কম্বাইন হারভেস্টারে একজন কৃষক এক ঘণ্টায় এক একর জমির ধান একই সাথে কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দি অনায়াসেই করতে পারে। একদিনে হারভেস্টার দিয়ে ১০ একর পর্যন্ত কাটতে খরচ হবে মাত্র ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। প্রথাগতভাবে সেটি করতে খরচ হবে প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা। ফলে কম্বাইন হারভেস্টারে ১০ একর জমির ধান কাটার মাধ্যমে সাশ্রয় হবে দেড়শোর বেশি শ্রমিক বা প্রায় প্রায় ৫৫ হাজার টাকা।
আরোও পড়ুন:কৃষকের ধান কেটে দিলেন পৌর মেয়র
যন্ত্রটি সহজলভ্য করতে কৃষককে সার্বক্ষণিক ডেলিভারি ও সার্ভিসিং সুবিধা ছাড়াও অর্থায়ন এবং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এসিআই।
জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৪৫ লাখ হেক্টর জমিতে দুই কোটি চার লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে বোরো থেকে। এবারে বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে জমিতে সোনালি ফসল দেখে কৃষক যতটা না খুশি তার থেকে বেশি চিন্তাগ্রস্ত কীভাবে এই ফসল ঘরে তুলবে। শ্রমিক স্বল্পতা তার ওপর আবার করোনাভাইরাসের প্রকোপ।
এই অবস্থায় যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে বোরো ধান কাটার শ্রমিকের অভাব থাকা জেলাগুলোতে ধান কাটার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কম্বাইন হারভেস্টর ও রিপার সরবরাহের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে কৃষকরা ৫০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকিতে কম্বাইন হারভেস্টার কিরতে পারবে। তবে এটি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। আবার সময়মত এখনই না দিতে পারলে প্রয়োজনীয়তা হারাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, দীর্ঘায়তি হচ্ছে বর্তমানের করোনা পরিস্থিতি। অন্যান্য জেলা বা উপজেলা থেকে আসতে পারছে না শ্রমিক। অল্পসংখ্যক শ্রমিক মাঠে কাজ করছে ধান কাটার সময় তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারছে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরকার যেসব যন্ত্র বরাদ্দ দিয়েছে তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে। ফলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবেলা করেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
























