নিজস্ব প্রতিবেদন এগ্রিকেয়ার২৪.কম, নাটোর:
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় ক্ষতিকর ও বন্ধু পোকা সনাক্তকরণের লক্ষ্যে একযোগে আলোক ফাঁদ (Light Trap) স্থাপন কর্মসূচি সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে বিভিন্ন ইউনিয়নে একই সময়ে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।


এই আলোক ফাঁদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে থাকা ক্ষতিকর পোকা এবং উপকারী পোকা পৃথকভাবে সনাক্ত করা সম্ভব হবে। ফলে কৃষকরা প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে পারবেন এবং অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সবুজ আলীর সভাপতিত্বে কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল ইমরান খান। তিনি বলেন,
“বর্তমান সময়ে কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। আলোক ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা মাঠপর্যায়ে পোকামাকড়ের সঠিক পরিস্থিতি জানতে পারব, যা কৃষকের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও খরচ কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারের কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের প্রযুক্তি আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করা হলে কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।


উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সবুজ আলী বলেন,“আলোক ফাঁদ একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এর মাধ্যমে আমরা ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারব এবং সময়মতো কৃষকদের পরামর্শ দিতে পারব। এতে ফসলের ক্ষতি কমবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।”

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ নাহিদুল ইসলাম নাহিদ, উপজেলা উদ্ভিদ ও সংরক্ষণ অফিসার মোঃ মোস্তাক আহমেদসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কৃষকবৃন্দ।
নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে একযোগে আলোক ফাঁদ স্থাপনের মাধ্যমে একটি সমন্বিত কীটপতঙ্গ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এতে করে কৃষকরা আগাম সতর্কতা পাবেন এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM) কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।
স্থানীয় কৃষকরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে এবং তারা আরও লাভবান হবেন।
কর্মসূচি শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাঠপর্যায়ের আলোক ফাঁদ পরিদর্শন করেন ।

এগ্রিকেয়ার/আরিফ