ডেইরি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: পাঁচ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি দুগ্ধ উন্নয়ন নীতিমালা। এমনকি দেশের দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে ২০১৬ সালের দিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন নীতিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। খসড়াটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানেন না কোন কর্মকর্তা।

২০১৬ সালে ‘জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন নীতিমালা’ প্রণয়ন করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। দেশে দুধের চাহিদার ঘাটতি মেটানোসহ এই খাতে শৃঙ্খলা আনতে এ উদ্যোগ নেয় সরকার। খসড়া নীতিমালায় ‘জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন বোর্ড’ ও ‘জাতীয় দুগ্ধ গবেষণা প্রতিষ্ঠান’ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। এছাড়াও দুগ্ধ খামারিদের বীমার আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষিদের দুগ্ধ খামার স্থাপনে উদ্বুদ্ধকরণের কথা বলা হয় খসড়া নীতিমালায়।

পড়তে পারেন: অভিনব কায়দায় অর্থ আত্মসাৎ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার

দুধ উৎপাদনে এখনও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। মাথাপিছু দুধের প্রাপ্যতা থাকা উচিত ২৫০ মিলিলিটার, সরকারি হিসাবে দুধের মাথাপিছু প্রাপ্যতা ১৫৮ থেকে ১৬০ মিলিলিটার। তরল দুধের ঘাটতির কারণে প্রতি বছর ব্যবসায়ীরা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার গুঁড়ো দুধ বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রেই আমদানি করা গুঁড়ো দুধ নিম্নমানের হয় বলে তা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের দুগ্ধশিল্প ব্যাপক সমস্যায় জর্জরিত। দেশে উন্নত জাতের গাভীর অভাব, গো-খাদ্যের অপ্রতুলতা এবং উচ্চমূল্য, মানসম্পন্ন খাদ্যের অভাব, প্রান্তিক খামারিদের জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব, রোগের প্রাদুর্ভাব, ভ্যাকসিনের অভাব, ওষুধের উচ্চমূল্য, দক্ষ জনবলের অপ্রতুলতা, অল্প সুদে ব্যাংক ঋণের অভাব, গাভী বীমা না থাকা, দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য সংরক্ষণ এবং মান-নিয়ন্ত্রণের সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে।

খসড়া নীতিমালায় যেসব রয়েছে

প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারীদের ন্যায্যমূল্য প্রতিযোগিতামূলক বাজার অবস্থার আলোকে নিশ্চিত করা, বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত মাঝারি ও বৃহদাকার খামারগুলো জনবসতি, রেললাইন, মহাসড়ক থেকে কমপক্ষে ৫০০ মিটার দূরে স্থাপন করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়।

খসড়া নীতিতে ডেইরি শিল্পের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে দুগ্ধনীতিতে সব কার্যকলাপ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন ও তদারকিতে দেশে একটি জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন বোর্ড গঠন ও বোর্ড পরিচালনার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া দুগ্ধ শিল্পের বিভিন্ন গবেষণার জন্য দেশে একটি জাতীয় দুগ্ধ গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ গ্রহণ করার কথাও বলা হয়েছে নীতিমালায়।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, দুগ্ধশিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে কৃষি সেক্টরের মতো সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। দুগ্ধশিল্পের যন্ত্রপাতি যদি দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করতে চায় তবে সেই প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। বাণিজ্যিক খামারিদের সরকারি ও বেসরকারি বীমা কোম্পানির মাধ্যমে বীমা সুবিধা দিতে উদ্যোগ নেয়া হবে।

এছাড়া দুগ্ধশিল্পে নিয়োজিত পুঁজির ওপর কৃষির ন্যায় কর সুযোগ-সুবিধা প্রদান, দুগ্ধশিল্পকে প্রাণিজ কৃষিখাত হিসেবে সকল ক্ষেত্রে শস্যখাতের মতো সুযোগ-সুবিধা দিতে উদ্যোগ নেয়া হবে।

দুগ্ধ ক্ষেত্রকে জাতীয় গুরুত্ব দিয়ে ‘জরুরি সেক্টর’ হিসেবে চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে ওই খসড়া নীতিমালায়। এতে আরও বলা হয়, সমবায়ভিত্তিক দুধ উৎপাদন কার্যক্রম সারা বাংলাদেশে সম্প্রসারণ, এক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের তিনস্তর বিশিষ্ট সমবায় মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, বাণিজ্যিক খামারগুলোকে সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের রেজিস্ট্রেশনের অধীনে রাখা, খামারের নির্ধারিত স্থানে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা রাখা, সমবায়ভিত্তিক দুগ্ধ উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করা এবং বিদেশ থেকে তরল ও গুড়ো দুধ আমদানি নিরুৎসাহিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

উন্নত জাতের গাভী উৎপাদন, উন্নত দুধেল জাতের মহিষের জাত তৈরি ও সংখ্যা বৃদ্ধিকরণ, সরকারি পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মাধ্যমে প্রতি উপজেলায় ঘাস চাষের জন্য কর্মসূচি বা প্রকল্প গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে নীতিমালায়।

নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব গোচারণ ভূমি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে দখল হয়ে গেছে তা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে যেন এভাবে গোচারণ ভূমি না কমে সেজন্য নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।

জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়নের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে রোববার (৩০ মে) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার এই মুহূর্তে মনে নেই। না জেনে তো এটা নিয়ে কথা বলা যাবে না। আমি ট্যুরে আছি। আগামী দু-দিন আমাকে পাওয়া যাবে না।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রাণিসম্পদ-২) শাহ্ মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘ফাইল না দেখে কিছু বলা যাবে না। খুব বেশি দিন হয়নি আমি এখানে যোগদান করেছি। আমি এখানে যোগ দেয়ার পর নীতিমালার (জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন নীতিমালা) খসড়াটি আমার সামনে আসেনি।’

 

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ