
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে দামে চমক দেখিয়েছে পেঁয়াজ। দামের কারণে পেঁয়াজ চাষে বাড়তি চাহিদা কৃষকের। আগ্রহ দেখা দিয়েছে পেঁয়াজের বীজ চাষে। পরবর্তীতে কম খরচে যেন পেঁয়াজের আবাদ করতে পারেন সেই নিরাপত্তায় বীজ চাষ তাদের।
পানি খরচ কম ও উৎপাদিত বীজের বাজার মূল্য আকাশছোঁয়া থাকায় অনেক কৃষক অন্যসব ফসলের চেয়ে পেঁয়াজের বীজ চাষেই ঝুঁকছেন বলে জানান রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র থেকে জানা যায়, গত বছর জেলায় পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে চাষ হয়েছিল ২৫৪ হেক্টর। চলতি বছর ২০ হেক্টর বেড়ে উৎপাদন হচ্ছে ২৭৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলাতেই চলতি মৌসুমে প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে পেয়াজের বীজ চাষ হয়েছে।
ধানের চাষ করে কাঙ্খিত দাম না পেয়ে কৃষকরা এখন অন্য আবাদের দিকে ঝুঁকেছে। এদের অনেকেই বেছে নিচ্ছে পেঁয়াজের বীজ চাষ।
চাষীরা জানান, পেঁয়াজ বীজের আকাশ ছোয়া দাম। চাষ বোপন হতে বীজ উঠা পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ হয় ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা। ১ বিঘা জমি হতে বীজ পাওয়া যায় দুই হতে আড়াই মণ। সময়ের ব্যবধানে বাজারে এক মন বীজ বিক্রি হয় ৬০ হাজার হতে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তাই পেঁয়াজ বীজ কৃষকেরা কাছে সোনার চেয়েও দামি হয়ে উঠেছে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জটেবটতলা গ্রামের কৃষক মহসিন আলী জানান, ‘এবার দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছি। তার ভাল ফলনের সম্ভাবনা আছে। ভালো দাম পেলে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হওয়া যাবে বলে আশা করছি। পেঁয়াজের বীজ ঘরে তোলার সময় হয়ে গেছে। কয়েক দিন পর জমি থেকে পেঁয়াজ বীজ ঘরে তুলবেন। সব চাইতে ভয়ে আছেন ঝড় শিলা বৃষ্টি নিয়ে।’
তানোর উপজেলার তালুক পাড়া গ্রামের কৃষক তাইফুর রহমান বলেন, ২ বিঘা জমিতে পেয়াজের বীজ চাষ করেছি । বর্তমানে ক্ষেতে আশানুরুপ ফুল আছে। এ জমি থেকে অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার জমিতে পেয়াজের বীজ ভাল রয়েছে। ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। পেয়াজ বীজের বেশ কিছু ক্ষেত পরির্দশন করেছেন। ক্ষেতে পেয়াজ বীজ ভাল হয়েছে, এখন বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকেরা বেশ লাভবান হবেন।
























