
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নের নেবুগুনিয়া এলাকায় বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকছে পানি। কপোতাক্ষ নদীর বাঁধ ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
গাবুরা ইউনিয়নের চারটি পয়েন্টে পানি উপচে লোকালয়ে আসে। এছাড়া উপকূলজুড়ে প্রায় সব স্থানে বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে।
আবহাওয়াবিদ ডঃ মোঃ আবুল কালাম মল্লিক জানান, বৃদ্ধি পাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়। কেন্দ্রের নিকট সাগর খুবই বিক্ষোভ করেছে। চট্টগ্রাম কক্সবাজার ও মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর সমূহকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ শুরু করে। গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম জানান, চারটি পয়েন্টে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ শুরু করে। কপোতাক্ষ নদের জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পয়েছে। বাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে নদীতে ভাটা শুরু হওয়ায় এ যাত্রায় রক্ষা হয়েছে। তবে পরবর্তী জোয়ারের সময় পরিস্থিতি কী ঘটবে সেটি এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ ন ম আবুজর গিফারী বলেন, উপকূলবর্তী এলাকায় ৪৩ পয়েন্টে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ রয়েছে। বাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ক্রমিক নাম্বার ১১ এতে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াশ উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
আবহাওয়াবিদ ডঃ মোঃ আবুল কালাম মল্লিক জানান, এটি আজ দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় আর্যভোত্ত উত্তর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী কাল দুপুর নাগাদ উত্তর পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় 90 কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় অতিক্রম করার সময় খুলনা সাতক্ষীরা বাগেরহাট ঝালকাঠি-পিরোজপুর বরগুনা পটুয়াখালী বরিশাল ভোলা নোয়াখালী লক্ষ্মীপুর ফেনী চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
পূর্ণিমার প্রভাবে খুলনা সাতক্ষীরা বাগেরহাট পিরোজপুর বরগুনা পটুয়াখালী বরিশাল ভোলা নোয়াখালী লক্ষ্মীপুর ফেনী চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলা সমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে চার ফুট অধিক উচ্চতার জোয়ারে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা সকল মাস নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে ।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























