নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৩ হাজার ১৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প। সেইসাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় কৃষিঋণ হিসেবে দেশের কৃষকদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে আরো ৫ হাজার কোটি টাকা। দেশের কৃষি খাতের জন্য ভর্তুকি বাবদ ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

গতকাল ১১ জুন ২০২০ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী ।

২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি বরাদ্দ গতবছরের অর্থবছরের তৃলনায় বেড়েছে ১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা।যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বাজেট বরাদ্দ ছিল ২১ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা।২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্যনিরাপত্তায় সব মিলিয়ে ২২ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

বাজেট বক্তৃতায় কৃষি খাত নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতে নিয়োজিত কৃষক, কৃষি শ্রমিক ও খাতসংশ্লিষ্টদের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবেলায় কৃষি উৎপাদন, বাজারজাত ও আমদানি নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ নেবে সরকার। এজন্য দেশে এক ইঞ্চি আবাদি জমিও ফেলে না রাখার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কার্ডধারী কৃষককে কৃষি উপকরণ সহায়তা দেবে সরকার। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ খাতের ৩ হাজার ১৯৮ কোটি টাকার বরাদ্দ থেকে কৃষক ও খামারিদের ফসল কাটার যন্ত্রপাতি কেনার জন্য সহায়তা দেয়া হবে। একই সঙ্গে স্বল্পমূল্যে সার-বীজ কেনা, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্প এবং স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ বিতরণে আগের উদ্যোগগুলো এগিয়ে নেবে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম যাই হোক না কেন বা আমদানি খরচ যাই হোক না কেন দেশীয় বাজারে সারের দাম বাড়ানো হবে না।

এছাড়া আগামী অর্থবছরে প্রায়োগিক গবেষণা জোরদার করার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বিভিন্ন ফসলের বিশেষ জাত উদ্ভাবনে সহায়তা করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, মানসম্পন্ন পাটবীজ উৎপাদন ও বহুমুখী পাটপণ্যের উদ্ভাবনের গবেষণায় সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হবে। বাড়ানো হবে খাদ্য সংরক্ষণের জন্য গুদামের ধারণক্ষমতা।

মাছ, মাংস, ডিম, দুধের মতো আমিষ পণ্য উৎপাদনে সাফল্য ধরে রাখতে উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। বলা হয়েছে, মিঠা পানির মাছের নতুন জাত উদ্ভাবনের গবেষণায় ও সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আহরণে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সহায়তা দেবে সরকার। এ খাতের উন্নয়নে প্রস্তাবিত ‘সামুদ্রিক মৎস্য আইন ২০২০’ এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে তিনটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন, তিনটি প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বিভিন্ন বিষয়ে ৪০টি গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

করোনা মহামারীর সময় জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবারের বাজেটে। প্রস্তাবিত বাজেটে চলতি বোরো মৌসুমে ৮ লাখ টন ধান ও ১১ লাখ ৫০ হাজার টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এরই মধ্যে আমন মৌসুমে ৭ লাখ ৯৮ হাজার টন শস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। করোনার প্রভাব মোকাবেলায় স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য খাদ্যসহায়তা প্রদান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালিয়ে নেয়া এবং খোলাবাজারে চাল বিক্রি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

বাজেটে কৃষিঋণ হিসেবে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ ৫ হাজার কোটি টাকা কৃষকদের জন্য নয়া দিগন্তের সূচনা করবে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।