
এগ্রিকেয়ার ডেস্ক: আগেভাগেই জানা ছিল ভারী বৃষ্টি হবে। সেই পূর্বাভাস পেয়ে বীজ বপন কয়েক দিন পিছিয়ে দিলেন গাইবান্ধার এক কৃষক। ফলশ্রুতিতে বেঁচে গেল তাঁর ২৫ হাজার টাকার বীজ। অন্যদিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বৃষ্টির আগাম খবর পেয়ে কীটনাশক ছিটানো বন্ধ রাখলেন আরেক চাষি। এতে তাঁর নগদ ৯ হাজার টাকা সাশ্রয় তো হলোই, রক্ষা পেল প্রায় ৬০ হাজার টাকার ফসল।
প্রকৃতির মেজাজ বুঝে কৃষিকাজ করলে যে লাভের পাল্লা কতটা ভারী হয়, তারই প্রমাণ মিলছে ‘অ্যাগ্রোমেট ফার্ম স্কুল’ মডেলে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বলছে, আবহাওয়ার আগাম তথ্য ও জলবায়ুভিত্তিক পরামর্শ ব্যবহার করে কৃষকেরা তাঁদের বিনিয়োগের বিপরীতে প্রায় ১৮ গুণ আর্থিক লাভ নিশ্চিত করতে পারছেন। এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের বিপরীতেও রিটার্ন আসছে ৭ গুণ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘অ্যাগ্রোমেট ফার্ম স্কুল মডেলের অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় এসব আশাজাগানিয়া তথ্য তুলে ধরা হয়। রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (রাইমস) ও সেভ দ্য চিলড্রেন যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিস (জিএফএফও)।
কর্মশালায় জানানো হয়, ‘চাইল্ড সেন্টারড অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন’ প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালী, গাইবান্ধা ও চট্টগ্রামের নির্দিষ্ট এলাকায় পাইলট ভিত্তিতে এই কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল কৃষকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস বুঝতে শেখানো এবং সেই অনুযায়ী সঠিক সময়ে চাষাবাদের সিদ্ধান্ত নিতে দক্ষ করে তোলা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম বলেন, “ডিএই এই অ্যাগ্রোমেট ফার্ম স্কুলের অভিজ্ঞতাকে আমাদের নিয়মিত সম্প্রসারণ সেবার সঙ্গে যুক্ত করবে। এর ফলে কৃষকেরা মাঠপর্যায়ে আরও বেশি ব্যবহারিক ও জলবায়ুনির্ভর পরামর্শ পাবেন।”
সেভ দ্য চিলড্রেনের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর এ এস এম রহমত উল্লাহর উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোমেনুল ইসলাম। রাইমসের পরামর্শক আবদুল মুইদ ও ক্লাইমেট সার্ভিস এক্সপার্ট আসিফ উদ্দিন বিন নূর প্রকল্পের বিস্তারিত ফলাফল উপস্থাপন করেন।
রাইমসের কান্ট্রি প্রোগ্রাম লিড রায়হানুল হক খান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে আগাম তথ্যই হতে পারে কৃষকের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা কবচ। কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
























