
মালিকুজ্জামান, যশোর, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: যশোরের পোল্ট্রি খামারিরা ব্যবসা গোটাচ্ছেন। উৎপাদিত ব্রয়লার মুরগির কেজি ১০৮ টাকা দরে বিক্রি করে প্রতি কেজিতে ২৫ টাকা লোকসান দিচ্ছেন। শুধু যশোর নয়, দেশের সব জায়গাতেই্ ব্রয়লার মুরগির দাম কমে যাওয়ায় খামারে বাচ্চা তোলা বন্ধ করছেন তারা।
জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের যুবকরা এক সময় খামারে মুরগি পালন করে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে খামারের পণ্য ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধির ফলে গুটিয়ে সীমিত হয়ে যাচ্ছে এই জনপ্রিয় পোল্ট্রি খামার ব্যবসা।
পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে জড়িত খামারী ও ফিড উৎপাদনকারীরাও লোকসানের বোঝা বইছেন। সম্ভাবনাময় এ শিল্প বন্ধের আশঙ্কায় দিন গুনছেন এক হাজার খামারের পাঁচ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার।
গত বছরের করোনার ক্ষতি সামাল দিতে না পেরে অনেকেই ঋণ নিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে আরও লোকসানে পড়েছেন।অনেকেই খামার বন্ধ করে পেশা বদলে ফেলেছেন।বর্তমানে খামার ব্যবসা গুটিয়ে বিভিন্ন কাজের দিকে ঝুকছেন।
এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:
বেড়েছে সোনালী মুরগির দাম, স্থিতিশীল ব্রয়লার
ব্রয়লারের ওজন বাড়ানোর কয়েকটি কৌশল
সারাদেশে খামারি পর্যায়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রয় মূল্য ১০৮ থেকে ১১০ টাকা।অথচ এক কেজি ওজনের একটি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন খরচ ১৩৫/১৪০ টাকা। প্রতি কেজিতে লোকসান ২৫ টাকা। ২ কেজী ওজনের মুরগী হলে একজন খামারি যদি ১০০০ মুরগি পালন করেন তার লস দাঁড়ায় ৫০ হাজার টাকা। এই হিসেবে উপজেলার খামারিদের প্রতিমাসে ডেমারেজ আনুমানিক প্রায় ১,২৪,২০,০০০ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুই থেকে তিন বছর আগে যে সকল বেকার যুবক বা ব্যবসায়ীরা খামার ব্যবসায় সফলতা লাভ করেছিলেন এখন তারা চোখে ধোঁয়াশা দেখছেন। অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজ করছেন।
সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের পোল্ট্রি ফিডের মালিক ও খামার ব্যবসায়ীরা জানান, ২০২১/২২ সালে প্রতি বস্তা মুরগির খাদ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যে খাদ্য প্রতি বস্তা ১৮৫০ টাকায় ক্রয় করা যেত এখন সেটি কিনতে হচ্ছে ৩২৫০/৩৩০০ টাকায়। এভাবে দাম বৃদ্ধি পেতে থাকলে জনপ্রিয় এই খামার ব্যাবসা অতি দ্রত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন ফার্ম মালিকরা।
যশোর সদর উপজেলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শফিউল আলম জানান, ঔষধ ও খাদ্য দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির ফলে অনেকটাই বিপাকে পাইকগাছা উপজেলার খামারিরা। ঔষধ ও খাদ্য দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে না এলে খামার ব্যবসায়ীদের জন্য দুর্বিষহ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























