
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ছাদবাগান বা আঙিনায় লতা জাতীয় সবজি চাষে অনেক সময় দেখা যায়, গাছে ফুল এলেও ফল ঠিকমতো ধরে না। লাউ, করলা, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, শসা, কুমড়া—এসব গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদা হয়। পরাগায়ন ঠিকভাবে না হলে ছোট ফল হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে। সঠিক ছাঁটাই ও পরিচর্যার মাধ্যমে স্ত্রী ফুলের সংখ্যা বাড়ানো যায়, ফলে ফলনও বাড়ে।
স্ত্রী ফুল বাড়াতে করণীয়
- লতা জাতীয় সবজির মূল কাণ্ডে শুরুতে যে ফুল আসে, সেগুলোর বেশির ভাগই পুরুষ ফুল। গাছের মূল কাণ্ডে ১২–১৪টি পাতা হলে অগ্রভাগ ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে দিতে হবে।
- ছাঁটাইয়ের পর গাছের গোড়ায় কম্পোস্ট, নিমখৈল, জিপসাম ও ম্যাগসার দিলে গাছ বাড়তি পুষ্টি পায় এবং নতুন শাখা দ্রুত বের হয়।
- প্রথম ডগা কাটার ৭–১০ দিনের মধ্যে নতুন শাখা বের হবে। গাছের গোড়া থেকে প্রথম ৭ পাতার নিচে যে শাখা বের হবে, সেগুলো ফেলে দিতে হবে। ওপরের দিকের শাখাগুলো বাড়তে দিতে হবে, এতে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হয়।
- এ শাখাগুলোকে দ্বিতীয় প্রজন্ম ধরা হয়। এসব শাখায় প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত স্ত্রী ফুল আসতে পারে। যখন এই শাখায় ৬–৭টি পাতা হবে, তখন আবার ডগা কেটে দিতে হবে।
- আবার ৭–১০ দিনের মধ্যে তৃতীয় প্রজন্মের শাখা বের হবে। এসব শাখায় প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত স্ত্রী ফুল আসতে দেখা যায়। এই ধারাবাহিক ছাঁটাই পদ্ধতিকে অনেকে 3G কাটিং বলেন।
- নিয়মিত ছাঁটাই করলে গাছের গোড়া মোটা ও শক্ত হয়, ফলে গাছ বেশি ফল ধারণ করতে পারে।
পরাগায়নের গুরুত্ব
- স্ত্রী ফুল চেনার সহজ উপায় হলো ফুলের পেছনে ছোট ফলের মতো ফোলা অংশ দেখা যায়। পুরুষ ফুলে এটি থাকে না।
- পুরুষ ফুলের পরাগ স্ত্রী ফুলে পৌঁছালে তবেই ফল বড় হয়ে পূর্ণাঙ্গ সবজি হয়। পরাগায়ন না হলে ছোট ফল হলুদ হয়ে ঝরে যায়।
- প্রাকৃতিকভাবে বাতাস ও মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন হয়। প্রয়োজনে হাতে পরাগায়ন করলে ফল ধরার সম্ভাবনা বাড়ে।
- সঠিক ছাঁটাই, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও পরাগায়ন নিশ্চিত করতে পারলে লতা জাতীয় সবজি গাছে স্ত্রী ফুলের সংখ্যা বাড়ে এবং ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।
























