নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: এ ফুল থেকে ও ফুলে উড়ছে মৌমাছির দল। মুকুলে ভরে গেছে পুরো গাছ। তাক লাগানো মুকুলের দিকে তাকিয়ে লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছেন পঞ্চগড়ের চাষিরা।

মুকুলের ঘ্রাণে মেতে উঠেছে মৌমাছির গুঞ্জন। এতো মুকুল দেখে খুশি বাগান মালিকরা। তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত প্রাকৃতিক কোন ধরনের সমস্যা মুকুলের উপর কোন খারাৎ প্রভাব ফেলেনি। সামনের দিনগুলোতে যতি প্রকৃতি সহায় থাকে তাহলে লিচুর বাম্পার ফলনের পাশাপশি ভাল মুনাফা করতে পারবে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, পঞ্চগড়ে দুই হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে। লিচু গাছের সংখ্যা দুই লাখ। এর মধ্যে দেড় লাখ লিচু গাছের বয়স ১৫ বছরের বেশি। এছাড়াও জেলার ৪৩টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলের বসতবাড়ি এবং আশপাশে রয়েছে বিপুল সংখ্যক লিচু গাছ। লিচু চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই পঞ্চগড়ে বাগানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হেক্টর প্রতি লিচুর ফলন ৫২৫ টন ধরা হয়েছে।

পড়তে পারেন: লিচু গাছে মুকুল আসা থেকে ফল ধরা পর্যন্ত পরিচর্যা

লিচু বাগান মালিক আক্তার মাস্টার জানান, লিচু রসালো ফল। সব বয়সের জন্য এ পুষ্ঠিকর ফল খুবই প্রিয়। লিচুর লোভ সামলাতে পারে এরকম কাউকে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। ৬ বিঘা জমিতে রয়েছে লিচু বাগান। গাছ রয়েছে ২০০টি। গতবছর সব গাছে লিচু ধরেনি, তাতেও দেড় লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেছি।

এই লিচু চাষি জানান, এবারে তার সব গাছে ধরেছে মুকুল, লিচু বিক্রি করা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তিনি এবার ৩/৪ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। একই ধরনের প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেছেন অপর লিচু বাগান মালিক আব্দুল মালেক। তারও রয়েছে ১২ বিঘা জমিতে লিচু ও আম বাগান।

পড়তে পারেন: লিচুর ফল ফেটে যাওয়া রোগের সহজ সমাধান

জেলায় ৫ জাতের লিচু চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে দেশী জাত, চায়না ২,৩,৪ এবং বোম্বে। চায়না ২,৩,৪ বাজারে চাহিদা ভাল থাকে। গত বছর চায়না ৩ জাতের লিচুর শ,ছিল ৪শ থেকে ৫শ টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. কামীম জানান, এ মুহুর্তে কৃষকদের লিচু বাগানে সুষম সার প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, পাশাপশি কৃষি বিভাগ প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও দিচ্ছে।

বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি জানান, লিচু গাছে বছরে ৩ কিস্তিতে অর্থাৎ বর্ষার শুরুতে, বর্ষার শেষে এবং শেষ কিস্তি গাছে ফুল আসার পর গাছের বয়স অনুসারে পরিমাণ মতো জৈব ও রাসায়নিক সার সুষম মাত্রায় দিতে হবে।খরা মৌসুমে ফল ধারার পর থেকেই ১০-১৫ দিন পর পর লচু গাছে নিয়মিত সেচ দিতে হবে।

পড়তে পারেন: লিচু গাছে প্রতিবছর ফলন পেতে যা করবেন (ভিডিও)

এছাড়া, সেচ প্রদানের পর প্রয়োজনে গাছের গোড়ায় কচুরিপানা বা খড় দ্বারা আচ্ছাদনের ব্যবস্থা নিতে হবে।  প্রতি বছর প্রতি গাছের গোড়ায় ক্যালসিয়াম সার (ডলোচুন – ৫০ গ্রাম) প্রয়োগ করতে হবে। ফল বৃদ্ধির সময় জিংক সালফেট ১০ গ্রাম/ লিটার পানিতে মিশিয়ে ২১ দিন পর পর গাছে স্প্রে করতে হবে।  গুটি বাধার পর পরই প্লানোফিক্স বা মিরাকুলান প্রতি ৪.৫ লিটার পানিতে ২ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।  বোরিক এসিড বা সলুবোর বোরণ ২ গ্রাম/ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১২ দিন অন্তর অন্তর ৩ বার গাছে স্প্রে করতে হবে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ