
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ছাদবাগানে টমেটো, কাঁচামরিচ ও বেগুন চাষ এখন বেশ পরিচিত চিত্র। আগে শীতকালেই এসব সবজির চাষ বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে অনেকে ক্যাপসিকাম, চেরি টমেটো ও বিফ টমেটোও চাষ করছেন। গাছ বড় হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই আশা থাকে, ফুল থেকে ঠিকমতো ফল ধরবে। গাছে ফুল এলে আনন্দও কম থাকে না।
কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় তখনই, যখন ফুল ফল না হয়ে ঝরে পড়ে। এতে হতাশা তৈরি হয়, বাগান করার আগ্রহও কমে যায়। অভিজ্ঞ বাগানিদের কাছে বিষয়টি পরিচিত হলেও নতুনদের জন্য এটি বড় সমস্যা মনে হতে পারে। তবে সঠিক পরিচর্যা জানলে এ সমস্যার সমাধান জটিল নয়।
প্রথমত
কাঁচামরিচ, টমেটো বা বেগুন—যে সবজিই হোক, সময় উপযোগী জাত নির্বাচন জরুরি। বারোমাসি জাত হলে সুবিধা বেশি। দিনের দৈর্ঘ্য ও তাপমাত্রার ওপর এসব সবজির ফুল আসা ও ফল ধরা নির্ভরশীল।
শীতকালীন জাত গরমের সময়ে লাগালে ফুল এলেও ঝরে পড়া স্বাভাবিক। এ অবস্থায় বিভিন্ন গ্রোথ রেগুলেটর বা ভিটামিন স্প্রে করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। তাই মৌসুম অনুযায়ী জাত নির্বাচন করলে ফলন ভালো হয়।
দ্বিতীয়ত
গাছের জন্য উপযুক্ত পাত্র নির্বাচন করতে হবে। অনেক সময় ছোট টবে চারা লাগানো হয়। শুরুতে সমস্যা না হলেও গাছ বড় হয়ে ফুল আসার সময় শিকড় টবভর্তি হয়ে যায়। এতে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যায়, গাছ পানিশূন্যতায় নেতিয়ে পড়ে। পরে পানি দিলে গাছ সতেজ হলেও আগের শকের প্রভাবে ফুল ঝরে যেতে পারে। ছোট পাত্রে ফল ধরলেও তা আকারে ছোট হয়। তাই ১২ ইঞ্চি বা সমমানের বড় টব, ফলের ক্যারেট বা পর্যাপ্ত জায়গা ব্যবহার করা ভালো।
তৃতীয়ত
মৌসুম, পরিবেশ ও সঠিক মাপের পাত্র নিশ্চিত করার পরও ফুল ঝরলে কিছু নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন।
১. ফুল আসার পর নিয়মিত পরিমিত পানি দিতে হবে, যাতে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকে।
২. এ সময় মাটিতে কম্পোস্ট, জিপসাম, ম্যাগসার, কুইক পটাশ, বোরন ও জিংক প্রয়োগ করা যেতে পারে। এসব উপাদান ফুল ঝরা কমাতে ও ফল বড় হতে সহায়তা করে।
৩. ফুল আসার পর থেকে প্রতি সপ্তাহে স্প্রে করা যেতে পারে:
- ফ্লোরা: ১ মিলি প্রতি লিটার পানিতে
অথবা
- প্রটোজিম: ১ মিলি প্রতি লিটার পানিতে
এর সঙ্গে
- কম্প্লেসাল: ২ মিলি প্রতি লিটার
- প্রমোটার প্লাস: ৩ ফোঁটা প্রতি লিটার
এ ছাড়া এসব স্প্রে ব্যবহারের ৪–৫ দিন পরপর প্রয়োগ করা যেতে পারে:
- সলুবোরণ: ১ গ্রাম প্রতি লিটার
- কুইক পটাশ: ৩ গ্রাম প্রতি লিটার
- চিলেটেড জিংক: ১ গ্রাম প্রতি লিটার
বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝে পরিচর্যা করলে সবজি গাছে ফুল ঝরার সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
























