
আন্তর্জাতিক কৃষি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ ভারত। তবে দেশটিতে এক বছরের সর্বোচ্চে উঠেছে চালের দাম। চলতি সপ্তাহে শস্যটির এ দাম বেড়ে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে বিজনেস রেকর্ডার।
ভারতের সবচেয়ে বড় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান সত্যম বালাজির নির্বাহী পরিচালক হিমাংশু আগারওয়াল বলেন, বাংলাদেশের দরপত্রের কারণে ভারতীয় সেদ্ধ চালের দাম বেড়েছে। ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করবে। বিভিন্ন জাতের চাল রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উদ্বেগের কারণেই পণ্যটির বাজার ঊর্ধ্বমুখী।
তথ্য বলছে, চলতি সপ্তাহে ভারতের ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল রফতানি হচ্ছে টনপ্রতি ৩৭৯-৩৮৭ ডলার মূল্যে, যা ২০২১ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহে একই জাতের চালের দাম ছিল টনপ্রতি ৩৬৬-৩৭২ ডলার। এ নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দাম বেড়েছে।
পড়তে পারেন: দুই মাসে ভারত থেকে ১৯ হাজার ৪৮৯ টন চাল আমদানি
ভারতের সরকার ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শতভাগ ভাঙা চাল রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপের চিন্তাভাবনা করছে ভারত। মূলত অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ধানের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এমন সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে দেশটি। এদিকে পর্যাপ্ত সরবরাহের প্রভাবে সাদা চালের বাজার স্থিতিশীল।
অন্ধ্রপ্রদেশের কাঁকিনাড়াভিত্তিক রফতানিকারকরা জানান, বাংলাদেশ এরই মধ্যে ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে ৩ লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি সম্পন্ন করেছে। উদ্দেশ্য চালের মজুদ পরিপূর্ণ করা স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা। বর্তমানে থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম কিছুটা কমে টনপ্রতি ৪১৫-৪১৬ ডলারে রফতানি হচ্ছে।
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চাল গত দুই মাসে ভারত থেকে ১৯ হাজার ৪৮৯ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এসব চালের মধ্যে নাজির, মিনিকেট, স্বর্ণা, রত্না ও জামাইবাবু উল্লেখযোগ্য।
পড়তে পারেন: আজ থেকে ১৮ টাকায় আটা, ৩০ টাকা কেজি মিলবে চাল
আমদানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে চালের দাম বাড়তি হওয়ার কারণে আমদানি বেড়েছে চার গুণ। বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানির অনুমতি দেয়ার পর থেকে এ বন্দর দিয়ে পণ্যটির আমদানি ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা বেশি পরিমাণেই চাল আমদানি করছেন।
ভোমরা বন্দর দিয়ে চাল আমদানি করে নওগাঁ জেলার মেসার্স সোনালী ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সুমন দে বলেন, চলতি অর্থবছরের শুরুতে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সপ্তাহে গড়ে ১০-১২ ট্রাক চাল আমদানি করেছি। এসব চালের মধ্যে রয়েছে চিকন নাজির, মিনিকেট এবং মোটাজাতের স্বর্ণা ও রত্না।
পড়তে পারেন: ১৫ টাকা কেজি মিলছে চাল
তিনি বলেন, আমদানীকৃত নাজির চাল দেশীয় বাজারে কেজিপ্রতি ৬৭ টাকা, মিনিকেট ৬২-৬৩ এবং মোটাজাতের চাল প্রতিকেজি ৪৬ টাকা দরে বিক্রি করছি। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে চাল আমদানি বেড়েছে। গত বছর এ সময়ে সপ্তাহে মাত্র চার-পাঁচ ট্রাক চাল আমদানি করেছিলাম।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব বিভাগ থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বন্দরটি দিয়ে ১৯ হাজার ৪৮৯ টন আমদানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চার গুণ বেশি। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৮ হাজার ৩১৩ টন এবং আগস্টে ১১ হাজার ১৭৬ টন আমদানি করা হয়েছে। এসব চাল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৭৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























