নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছাড়িয়ে গেছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে নজমুল হক উচ্চ বিদ্যালয়। সেখানেই এক ট্রাকের পেছনে শ’দুয়েক মানুষের আঁকাবাঁকা লাইন। এখানেই ২ লিটার তেল, ২ কেজি চিনি ২ কেজি ডাল ৪৬০ টাকায় বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি)।

গতকাল রোববার (২০ মার্চ) থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে সারাদেশে ‘এক কোটি পরিবারের’ কাছে কম দামে পণ্য বিক্রি করবে বলে ঘোষণা দেয় টিসিবি। সে অনুযায়ী রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫৫ হাজার পরিবার এবং উপজেলা ও পৌরসভার এলাকায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৪০ জনকে ভুর্তকি মূল্যে টিসিবির এসব পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে।

নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ডে সাড়ে ১৪’শ ৩০ কার্ড করা হয়েছে। দুই জায়গায় দুটি ট্রাকে টিসিবি পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে ১৫ জন কর্মী। প্রতিটি ট্রাকের কাছে রয়েছে ৫-৭ জন পুলিশ যাতে কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয়। কাদিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ৭৩২ টি কার্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য কার্ডে সই করে দেওয়া হচ্ছে ২ কেজি ডাল, দুই কেজি চিনি আর দুই কেজি সয়াবিন তেল।

পড়তে পারেন: টিসিবির এক কোটি ফ্যামিলি কার্ড যারা পাচ্ছেন

দাম পড়ছে প্রতি লিটার তেল ১১০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা ও প্রতি কেজি মসুরের ডালের দাম পড়ছে ৬৫ টাকা। অর্থাৎ একজন ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ৪৬০ টাকায় ২ লিটার তেল, ২ কেজি চিনি ও ২ কেজি মসুরের ডাল নিতে পারছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই প্যাকেজর সাথে ২ কেজি ছোলা, খেজুর ফল ও পিঁয়াজ যুক্ত করে বিক্রয় করা হবে জানালেন ১৩ নং ওয়ার্ড সচিব সাখাওয়াত হোসেন সুমন।

৪ বছরের এক মেয়েকে নিয়ে প্রায় ২ ঘন্টা দাঁড়িয়ে আঞ্জুমান আরা বেগম। জিজ্ঞেস করতেই বললেন,‘ আপ্নেরা তো সবই জানেন। দুই ঘন্টা হয়ে গেলো লাইন আগায় না। কার্ডের মধ্যে সিরিয়ালের ব্যবস্থা করলে ভালো হবে। আর এক কষ্ট করে দাড়িয়ে থেকে খুববেশি লাভ হচ্ছে না। সাথে ১০ কেজি করে চাল দিলে সবচেয়ে ভালো হতো। বাচ্চার বাপ কাজে গেছে। বাধ্য হয়ে আসছি।”

পড়তে পারেন: রমজানের আগেই ৪ পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে টিসিবি

টিসিবির ট্রাকে হ্যান্ডমাইকে বারবার শৃঙ্খলার ঘোষণা দিচ্ছেন মো: লিটন হোসেন। করোনার শুরু থেকেই আছেন এ বিতরণের কাজে। তিনি বললেন, “মানুষের কষ্ট দেখে দেখে সয়ে গেছে। দেখতেই পাচ্ছেন- পুরুষের চাইতে নারীর সংখ্যা দ্বিগুণ। পুরুষরা কাজে গেছে কারণ লাইনে দুই-তিন ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। টিসিবির পণ্য কিনতে গিয়ে যদি দিনের কাজ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তো আরো সমস্যা। টিসিবিতে আরো লোকবল দরকার। অল্প সময়ে বিতরণ করতে পারলে কিছুটা স্বস্তি মিলে।”

ট্রাকের পাশেই এক ব্রেঞ্চে বসে কার্ড যাচাই করছেন দু-তিন জন। সেখানেই দু-জন মহিলা এসে তাদের কার্ডের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন; তাদের কার্ড হয়নি কেন? কাউন্সিলর সচিব জানালেন- এ দফায় যতটুকু সম্ভব দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ তারিখ তাদের কার্ড করে দেবেন। সচিব এও জানালেন, কার্ড না থাকায় অনেকে এসে ফিরে যাচ্ছেন। তাদের মুখের দিকে তাকালে কষ্ট হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য এখনই সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসা উচিত।

পড়তে পারেন: ১ লাখ ৯০ হাজার পরিবার পাবে টিসিবির বিশেষ কার্ড

কার্ড বিতরণে জালিয়াতি কিংবা সঠিক ভোক্তা পাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মোমেন বলেন, মেয়র মহোদয়ের পক্ষ থেকে যেসব কার্ড পেয়েছি সঠিকভাবে তা বিতরণ করা হয়েেেছ এখানে জালিয়াতির সুযোগ নেই। রিকসা চালক, দিনমজুর, ভ্যানচালকদের দেওয়া হয়েছে এই কার্ড। দুটি কার্ডের মধ্যে পণ্য পেলে সিল মেরে একটি কার্ড ডিলার জমা নিচ্ছেন। এভাবে স্বচ্ছতার মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিতরণ চলছে। জনগণও খুশি কমদামে জিনিস পেয়ে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ